বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জনসংখ্যা, ফুরোচ্ছে বাঁচার রসদ
আজ, রবিবার ১১ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে এমন একটা দিন, যার প্রভাব টের পাচ্ছে মানবজাতি। ‘আয় আরও বেঁধে বেঁধে থাকি’। একই সঙ্গে বেঁধে বেঁধে থাকার যেমন দিন, তেমনই দমবন্ধ হয়ে আসার দিনও। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা জনসংখ্যা, বিশ্বের সমাজনীতি, অর্থনীতি পাশাপাশি বেঁচে থাকার মূল রসদের উপর বাড়তে থাকা চাপের দিকে তাকানোর দিন আজ।
আরও পড়ুন: কাল যেন মহালয়া
জনসংখ্যা দিবস ১৯৮৯ সালে ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্রমাগত জনসংখ্যা বাড়তে থাকার যে নানান সমস্যা রয়েছে তার সমাধান খুঁজে বের করা এবং সচেতনতা বাড়াবার জন্য তিন দশক ধরে পালিত হচ্ছে এই দিনটা। লক্ষ্য একটাই, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যাগুলিকে আবারও খতিয়ে দেখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপুষ্টি, পর্যাপ্ত শিক্ষার অভাব, বেকারত্ব, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়া ইত্যাদি সমস্যার মূলে রয়েছে অতিরিক্ত জনসংখ্যা। ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা প্রয়োজন জনসংখ্যার হার। জনসংখ্যা সমস্যা জর্জরিত চীন এক সন্তান নীতির মাধ্যমে জনসংখ্যা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল।
আরও পড়ুন: মম চিত্তে নিতি নৃত্যে
একদিকে জন্ম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিতে যেমন হবে তেমনই যাদের এই পৃথিবীতে আনা হচ্ছে তাদের জন্য ভালোভাবে বাঁচার ব্যবস্থাও করতে হবে।কোনও একটি দেশের সার্বিক বিকাশ এবং আর্থিক অবস্থা অনেকটাই নির্ভর করে সেই দেশের জনসংখ্যা তার কর্মক্ষমতা এবং সেই ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর উপর। ২০২১-এ পরবর্তী আদমসুমারি। বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে আসা রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যা ১৩০ কোটির উপরে। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর প্রায় একতৃতীয়াংশ মানুষই বাস করে ভারত ও চীনে। ভারত ও চীন ছাড়া অন্যান্য জনবহুল দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া এবং ব্রাজিল।
আরও পড়ুন: রণ বনে-জঙ্গলে
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। জনসংখ্যা বোঝা নাকি সম্পদ? কেউ কেউ মনে করেন, জনসংখ্যা বোঝা নয় বরং সম্পদ। জনসংখ্যার উপরে নির্ভর করে যে কোনও দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ও আর্থিক বুনিয়াদ। অর্থাৎ প্রত্যেক মানুষের যে কাজের ক্ষমতা রয়েছে তাকে দেশের উন্নয়নের কাজে লাগিয়ে, উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করলে জনসংখ্যা কখনওই বোঝা হয়ে দাঁড়াবে না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, পৃথিবীর যা সম্পদ আছে তাতে ৩০০ কোটি লোককে কেবলমাত্র জায়গা দেওয়া যায়, তাই ধীরে ধীরে জনসংখ্যাকে কমিয়ে আনা উচিত। কেবলমাত্র এইভাবেই প্রকৃতির উপর যে নির্যাতন চলছে তা যেমন বন্ধ করা যাবে, মানুষের ভবিষ্যতের পক্ষেও তা মঙ্গলজনক হবে।
আরও পড়ুন: নারদ নারদ….
জনগণনার হিসেব দেখলে বোঝা যাবে নারী এবং পুরুষের বৈষম্য ঠিক কতখানি। ভারতে পুরুষের নিরিখে মহিলার সংখ্যা অনেক কম। এর মূলে রয়েছে কন্যাভ্রুণ হত্যা। বহু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভারতে কন্যা সন্তান অনীহার ফসল। আজও ভারতের বহু পরিবার শুধুমাত্র পুত্রসন্তান পাবার আশায় সন্তানবতী করে তোলে মহিলাদের। এর বিপুল প্রভাব পড়ে জনসংখ্যায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে চিকিৎসাবিজ্ঞানেরও বিপুল অবদান। বর্তমানে একজন ভারতীয় পুরুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৬৮। মহিলাদের হয়েছে ৭২। সুতরাং দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গেলে মৃত্যুর সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণও করতে হবে। যথোপযুক্ত শিক্ষা, সচেতনতা, বিপুল কর্মসংস্থানের মাধ্যমেই তা সম্ভব। তার মধ্যে দিয়েই এই বিশেষ দিনকে উপযুক্ত মর্যাদা দেওয়া যাবে।