প্রয়াত জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বলে গেছেন, ‘পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ আছে, কিন্তু একটিও খারাপ বাবা নেই’। সেই কথারই রেশ টেনে বলতে হয় জন্ম দিলে জন্মদাতা হওয়া যায়, কিন্তু ‘বাবা’ হয়ে উঠতে হয়। বাবা শব্দটার মধ্যে লুকিয়ে থাকে সন্তানের জন্য ত্যাগ এবং ভীষণ দায়িত্ব-কর্তব্যের গল্প। শাস্ত্রে বলা হয়, ‘পিতা স্বর্গ পিতা ধর্ম পিতাহি পরমন্তপঃ। পিতাহি প্রীতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্বদেবতা।’ অর্থাৎ বাবাকে খুশি করতে পারলেই সকল দেবতা খুশি হন। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের পথ প্রদর্শক বাবা। তাঁর হাত ধরেই আমরা বাইরের জগৎটাকে চিনতে শিখেছি। তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা জীবনের সমস্ত বাধা অতিক্রম করতে সাহায্য করে। পিতার সঙ্গে পুত্র-কন্যার যে সম্পর্ক তার সঙ্গে পৃথিবীর আর অন্য কোনও সম্পর্কের তুলনা হয় না। এই ভালোবাসা বিশ্লেষণ করার কোনও প্যারামিটার হয় না। পিতার সঙ্গে পুত্র-কন্যার ভালোবাসা জড়িয়ে থাকে রোজ দিন। তবু জুন মাসের তৃতীয় রবিবার আলাদা করে বেছে নেওয়া হয়েছে, ‘পিতৃ দিবস’ পালনের জন্য।
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে বাবা দিবস পালনের প্রচলন হয়। মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল তাই সব বাবাদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতেই সূচনা করা হয় এই বিশেষ দিনের। ১৯৯০ সালে ওয়াশিংটনে প্রথম পালিত হয়েছিল দিনটি। সোনোরা স্মার্ট ডড নামে এক মাতৃহারা মহিলার বাবা কাজ করতেন সেনা বাহিনীতে। তিনি খুব কষ্টে তাঁর ছেলে-মেয়েদের বড় করেছিলেন। তাঁর এই কস্তকে সম্মান জানাতেই তাঁর মেয়ে সোনেরা ফাদার্স ডে পালন করেন। তিনি ৫ জুন দিনটি পালন করতে চেয়েছিলেন। কারণ সেদিন ছিল তাঁর বাবার জন্মদিন।
আরও পড়ুন: Daily Bengali Horoscopes | Ajker Rashifal | আজকের রাশিফল | ১৮ জুন, ২০২৩
অন্যদিকে, অনেকেরই মোট সোনেরারের আগেও পালিত হয়েছে ফাদার্স ডে ১৯০৮ সালে ৫ জুন পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের গির্জায় দিনটি পালিত হয়েছিল। এই নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সোনোরার আর তাঁর সঙ্গীরা ফাদার্স ডে দিন্টিকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রচার করেছিলেন। শেষে ১৯১৩ সালে মার্কিনসংসদে ফাদার্স ডে দিনটিকে ছুটি হিসেবে ঘোষণা করাহয়। ১৯৬৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন দিনটি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। সেই থেকে পালিত হয়ে আসছে ফাদার্স ডে।
তবে বিংশ শতাব্দীর অনেক আগের থেকেই এবং যুগে যুগে নির্দর্শন পাওয়া যায় পিতার প্রতি সন্তান আর সন্তানের প্রতি পিতার অপার ভালোবাসার। যেমন, ত্রেতা যুগের রাম পিতার এক কথায় ১৪ বছরের জন্য বনবাসে গিয়েছিলেন। এদিকে আবার সমুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর সন্তানের রোগমুক্তির আশায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে সন্তানের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছেন।