কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) ঘোষণার পরপরই প্রশাসনের শীর্ষপদে একের পর এক বদলি। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রাতারাতি রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই এবার সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বদলির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কার্যত ‘পত্রবোমা’ ফেলেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
রবিবার বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদল করে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে রাতারাতি সরানো হয়। নন্দিনী চক্রবর্তীর জায়গায় নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন দুষ্মন্ত নারিয়ালা। অন্যদিকে জগদীশ প্রসাদ মিনার বদলে স্বরাষ্ট্রসচিব হন ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস সংঘমিত্রা ঘোষ। তিনি এতদিন নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের সচিব ছিলেন। কমিশন তাঁকেই হোম ও হিল অ্যাফেয়ার্স দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ করেছে।
আরও পড়ুন: বৃষ্টি–রোদ লুকোচুরি, দুপুরে ভ্যাপসা গরম! বিকেলের পর কোন কোন জেলায় নামতে পারে বৃষ্টি?
শুধু প্রশাসনেই নয়, পুলিশ প্রশাসনেও বড়সড় রদবদল হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডের পরিবর্তে আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সুপ্রতিম সরকারকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্বে এসেছেন অজয় নন্দা। এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদে বিনীত গোয়েলের পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজয় মুকুন্দ রানাডেকে।
ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর এত দ্রুত প্রশাসনের শীর্ষপদে এই ধরনের বদলি কার্যত নজিরবিহীন বলেই মত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের। এই বিষয়েই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এমন বদলির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কাছে বিকল্প নাম চাওয়া হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া মানা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি কমিশনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী বলেও অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একজন বাঙালি মহিলা চিফ সেক্রেটারিকে বদলে দেওয়া হয়েছে। একজন মহিলাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দেওয়া হল।” শুধু বাঙালি নয়, অবাঙালি আধিকারিকদেরও সরানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট, “যাঁকেই পাঠান, তাঁরা আমাদের হয়ে কাজ করবেন, মানুষের হয়ে কাজ করবেন।”
