পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) কেতুগ্রামের (Ketugram) ছোট্ট গ্রাম চিনসপুর। সেখানেই জন্ম রেনু খাতুনের একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অদম্য লড়াইয়ের গল্প। জীবনের একের পর এক আঘাতকে অতিক্রম করে যিনি আবার দাঁড়িয়েছিলেন নিজের পায়ে। কিন্তু এবার তাঁর লড়াই অন্য, ভোটার তালিকা থেকে (Voter List) নাম বাদ পড়া নিয়ে।
ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবা করার স্বপ্ন ছিল রেনুর। সেই স্বপ্নপূরণে নার্সিংয়ের প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পরই বদলে যায় জীবন। অভিযোগ, স্বামী তাঁর চাকরি করা মেনে নেননি। এরপর ঘটে যায় অকল্পনীয় নৃশংসতা, স্বামী ও তাঁর সঙ্গীদের হাতে কেটে নেওয়া হয় রেনুর ডান হাত। মুহূর্তে ভেঙে পড়ে জীবন, থমকে যায় সব স্বপ্ন।
আরও পড়ুন: ভোটার তালিকায় বড়সড় কাটছাঁট, বাদ ৯০ লক্ষের বেশি নাম
তবে সেখানেই শেষ হয়নি রেনুর গল্প। বরং সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন লড়াই। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তাঁর জন্য কৃত্রিম হাতের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি, নতুন করে জীবন গড়ার সুযোগ হিসেবে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নার্সের চাকরিও পান তিনি। অন্ধকার পেরিয়ে আবার আলোয় ফিরে এসে অন্যের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন রেনু।
কিন্তু আজ আবার নতুন করে প্রশ্নের মুখে তাঁর পরিচয়। অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তাঁর নাম। যে নারী এত লড়াই করে নিজের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁর নামই যদি তালিকায় না থাকে। তবে সেই ব্যবস্থার উপরই প্রশ্ন উঠছে।
রেনুর ঘটনা শুধুই একটি প্রশাসনিক ত্রুটির অভিযোগ নয়, এটি এক বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। একটি নাম মুছে যাওয়া মানে শুধু একটি ভোটাধিকার হারানো নয়। তা যেন মুছে দেয় এক সংগ্রামের ইতিহাস, এক নারীর অদম্য মানসিক শক্তিকে। রেনু আজও লড়ছেন। প্রশ্ন একটাই, এই লড়াইয়ে তাঁর পরিচয় কি আবার ফিরবে?

