ভোটের আগেই তালিকা থেকে উধাও নাম! ‘ক্লেরিক্যাল ভুলে’ বঞ্চিত হতে পারেন লক্ষ লক্ষ বাংলার ভোটার?

0
34

কলকাতা: ভোটের মুখে বড় উদ্বেগ! নাগরিকত্ব নয়, সামান্য নথিগত বা তথাকথিত ‘লজিক্যাল ত্রুটি’র জেরে ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ মানুষ। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের পাহাড়।

সূত্রের খবর, পাঁচ মাস আগে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ (under adjudication) ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণের কথা ছিল। তার মধ্যে প্রায় ৩২ লক্ষের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো গিয়েছে, আর সেই তালিকা থেকেই প্রায় ১৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলে খবর।

আরও পড়ুন: ভোটে কর্মী সংকট, চিকিৎসকরাও প্রিসাইডিং অফিসার! নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে চাপে রাজ্য

যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে এত অল্প সময়সীমা কার্যত অনেককেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে বলেই আশঙ্কা। সবচেয়ে বড় বিতর্ক উঠেছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা তথাকথিত যুক্তিগত অসঙ্গতি নিয়ে।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, নাগরিকত্বের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। বরং নামের বানান ভুল, বাবা-মায়ের বয়সের সঙ্গে অসামঞ্জস্য, পারিবারিক তথ্যের অমিলের মতো বিষয়কে ভিত্তি করে এই ছাঁকনি চালানো হচ্ছে। অভিযোগ, এই যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে একটি এআই-চালিত সফটওয়্যার, যার কার্যপদ্ধতি বা মানদণ্ড প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

এই প্রক্রিয়া ঘিরে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এই ছাঁকনির ফলে সংখ্যালঘু ভোটারদের উপর বেশি প্রভাব পড়ছে। যদিও এই দাবি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। এদিকে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ালেও এখনও চূড়ান্ত রায় মেলেনি। বরং আদালতের তত্ত্বাবধানে প্রক্রিয়ার কিছু অংশ চলছে বলে জানা গিয়েছে।

সব মিলিয়ে, স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের ভোটব্যবস্থার যে ঐতিহ্য, তার সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিচ্ছে এই পরিস্থিতি। ভোটের আগে এমন অনিশ্চয়তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য কতটা উদ্বেগজনক, তা নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here