ওয়েবডেস্ক- মধ্যপ্রাচ্যের (Middle East) যুদ্ধের আঁচে গোটা বিশ্বে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তেলের ভাণ্ডারে ইরানের আমেরিকার দৃষ্টি গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ইরানের (Iran) হুঙ্কারে তেলের ভাণ্ডারে টান পড়েছে। এই পরিস্থিতির ভুক্তভোগী ভারতও। আঁচ পড়েছে মফস্বল ও গ্রাম-গঞ্জ এলাকার স্কুলগুলিতে। স্কুলছুট গুলির কমাতে শুরু হয়েছিল মিড ডে মিল (Mid Day Meal)।
দেশের এই পরিস্থিতিতে মিড ডে মিল যাতে কোনওভাবে বন্ধ না হয় তা নিয়ে বুধবার শিলিগুড়ি থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মিড ডে মিলের রান্নার এলপিজি গ্যাসের সঙ্কট না হয়। ঠিক তার ২৪ ঘন্টার মধ্যে উল্টো ছবি দেখা গেল বসিরহাট মহকুমা সীমান্ত থেকে সুন্দরবনের একাধিক স্কুলে। গ্যাসের পরিবর্তে কাঠের জালে রান্না করছে মিড ডে মিল কর্মীরা।
বসিরহাটের (Basirhat) সাইপালা প্রাথমিক বিদ্যালয় এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা হাজারের বেশি। সেখানেই সকাল থেকে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মিড ডে মিলের রান্না হচ্ছে কাঠের জালে। সেই সঙ্গে চোখে ধরা জ্বালাপোড়ার মধ্যে দিয়ে আগুনের তাপে মিড ডে মিলের কর্মীরা শিশুদের খাবার দেওয়ার চেষ্টা করছে। এদিকে কাঠের জ্বালানির দাম বাড়ছে দ্বিগুণ।
এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিলয় সরকার বলেন, সরকার যেখানে বলছে মিড ডে মিল চালু রাখতে গ্যাসের পরিবর্তে কাঠের জালে রান্না হচ্ছে। গ্যাসের সরবরাহ নেই। তা সত্ত্বেও শিশুরা যাতে মিড ডে মিল থেকে বঞ্চিত না হয় তার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
মিড ডে মিল কর্মী পাপড়ি দে বলেন, গ্যাসে রান্না হয় বলে কাঠ রাখা হয় না, কিন্তু বাচ্চাদের তো খাওয়াতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে কাঠের জালে রান্না করছি। আমরা চাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে মিড ডে মিল থেকে বঞ্চিত না হয় আগের মতো গ্যাস সরবরাহ থাকুক।
