ওয়েব ডেস্ক: মালদহের কালিয়াচকের ঘটনা (Malda Kaliachak Incident) বিজেপির গেমপ্ল্যান, সাগরদিঘি থেকে সুর চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সাগরদিঘির জনসভা থেকে বিজেপিকে কড়া আক্রমণ মমতার। তৃণমূল নেত্রী বলেন, টোটালটাই অমিত শাহ (Amit Shah) করিয়েছি। পুরোটা বিজেপির গেম প্ল্যান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ সুপ্রিম কোর্ট ঠিক যা বলেছে, ঠিক বলেছে।” তাঁর আবেদন, লড়াইটা শান্তিপূর্ণভাবে করতে হবে। সেই সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য নির্বাচন কমিশনের উপরই দায় চাপিয়েছেন মমতা। নির্বাচন কমিশন (Election Commission) আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি কমিশন।” তাঁর হাতে যে এখন প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই, তা-ও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এসআইআর- এর তালিকায় নাম নেই, এর প্রতিবাদে বুধবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ি।কিন্তু বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। জনরোষ আছড়ে পড়ে এসআইআরের কাজে যাওয়া বিচারকদের উপর। যার জেরে রাতদুপুরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মালদহের কালিয়াচক। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ শোকজ করা হয় মালদহের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকেও। মোথাবাড়িকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কালিয়াচকের এত বড় কাণ্ড! ‘কেউ কিছু জানায়ানি’ বলে অভিযোগ করেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মাকে কেউ খবর দেয়নি। নতুন মুখ্যসচিব নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেন না। রাতে একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে আমি খবর পেলাম।নির্বাচন কমিশন এখানে রাষ্ট্রপতি শাসন চালাচ্ছে। মালদার ঘটনায় তৃণমূনেত্রী বললেন, ‘আমি প্রথমে একটা আবেদন করব, এখন অ্যাডমিন আমার হাতে নেই। আইন শৃঙ্খলা এখন নির্বাচন কমিশন হাতে নিয়েছে। ওরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথায় চলে। আমার কথায় চলে না। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিজি, সিপি, ডিএম, এসপি, বিডিও, এডিএম, এসজিও, আইসিরা চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে। আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে ইলেকশন কমিশন সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন,
“নির্বাচন বাতিল করে দিলে আগামিদিনে আপনাদের ভোটাধিকার থাকবে না। বাংলাকে বিক্রি করে দেবে।
নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি কমিশন।” তাঁর হাতে যে এখন প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই, তা-ও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মালদহের ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে সমর্থন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ঠিক বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।” তার পরেই আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি বলেন, “আপনারা কি জানেন না, যাঁরা আন্দোলন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই করেছে, এনআইএ করেছে।
আরও পড়ুন: কালিয়াচকের নিয়ে রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, মুখ্যসচিব-জেলাশাসক-ডিজিকে শোকজ
মমতা বলেন, আমি মনে করি, মানুষের ক্ষোভ থাকতেই পারে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ উত্তর দিনাজপুর জুড়ে বিজেপির প্ল্যান অনুযাযী সংখ্যালঘুদের নাম বাদ গেছে। আমার ভবানীপুরে কেন্দ্রে দেড় খানা ওয়ার্ডে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখানেও ঢেলে বাদ দিয়েছে। এটা সবাই জানি।তার জন্যই আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম। সুপ্রিম কোর্ট তো সত্যি কথাই বলেছে, এটা হতে পারে না। যাদের অ্যাডজুডিকেশনে আছে, তাদেরটা আবার নতুন করে বিচার করতে হবে। কিন্তু মনে রাখবেন, লড়াইটা আমাদের শান্তিপূর্ণ ভাবে করতে হবে। মমতা আরও বলেন, “মানুষের ক্ষোভ থাকতেই পারে। বিজেপি টাকা দিয়ে আপনাদের উত্তেজিত করল, রাস্তা অবরোধ করাল, জাজদের ঘেরাও করাল। আমার প্রতি বিশ্বাস থাকলে কারও কথায় ফাঁদে পা দেবেন না। এটা বিজেপির গেম প্ল্যান।তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেন, “বিজেপি এবং আপনাদের মধ্যে কমিউনাল লোক ঢুকেছে। হায়দরাবাদ থেকে উড়ে এসেছে। টাকা নিয়ে ভোট ভাগের চেষ্টা করছে।”

