১৪৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম! টয় ট্রেনে টিকিট পরীক্ষকের দায়িত্বে গোর্খা-কন্যা 

0
26

ওয়েব ডেস্ক : দার্জিলিংয়ের (Darjeeling) কুয়াশা মোড়া পাহাড়ি ঢালে, সরু রেললাইনের বাঁকে বাঁকে যে টয় ট্রেন আজও ইতিহাস আর নস্টালজিয়ার গল্প বয়ে নিয়ে চলে।  সেই ঐতিহ্যের পাতায় যুক্ত হল এক নতুন মাইলফলক। ১৪৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের টয় ট্রেনে টিকিট পরীক্ষকের (Female ticket collector) দায়িত্বে এলেন এক মহিলা। পাহাড়েরই মেয়ে সরিতা ইয়োলমো (Sarita Yolmo)।

৫৫ বছরের গোর্খা নারী সরিতার জন্ম দার্জিলিঙের (Darjeeling) সোনাদা এলাকায়। পরে কাজের সূত্রে তিনি শিলিগুড়ির দাগাপুরের পঞ্চনই এলাকায় । দীর্ঘ রেলজীবনে রাজধানী, গুয়াহাটি–বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস, অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনে টিকিট পরীক্ষকের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে চিফ টিকিট কালেক্টর হিসেবেও বহু বছর কাজ করেছেন। তবু নিজের জন্মভূমির ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে দায়িত্ব পাওয়ার কথা কখনও ভাবেননি তিনি।

আরও খবর : আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েত অফিসে তালা গ্রামবাসীদের!

গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত হেরিটেজ টয় ট্রেনের (Toy Train) সিনিয়র টিকিট কালেক্টর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন সরিতা। প্রথম দিন কিছুটা শঙ্কা থাকলেও, যাত্রা শেষেই সেই ভয় কেটে যায়। তাঁর কথায়, অন্য ট্রেনে অনেক সহকর্মী থাকলেও টয় ট্রেনে প্রায় একাই সমস্ত দায়িত্ব সামলাতে হয়। তবে যাত্রীদের উচ্ছ্বাস ও শুভেচ্ছা তাঁকে নতুন উদ্যম দিয়েছে। অনেক পর্যটক তাঁর সঙ্গে ছবি তুলে অভিনন্দন জানান।  যা তিনি জীবনের অমূল্য স্মৃতি বলে মনে করছেন। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরীর মতে, সরিতা ইয়োলমোর এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও মহিলাদের এই পেশায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সরিতা (Sarita Yolmo) বলেন, যে পাহাড়ে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা, সেই পাহাড়ের বুক চিরে ছুটে চলা টয় ট্রেনে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অসাধারণ। একই সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী রেলের ইতিহাসে প্রথম মহিলা হিসেবে নাম যুক্ত হওয়ায় তিনি গর্বিত।

দেখুন অন্য খবর :

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here