কলকাতা: এসআইআর-বিরোধী (SIR) আন্দোলনের আবহে মালদহের (Maldah) বৈষ্ণবনগরে নির্বাচনী সভা করলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) একাধিক সভা সেরে মালদহের পৌঁছে বৈষ্ণবনগর কেন্দ্রের প্রার্থী চন্দনা সরকারের সমর্থনে জনসভা করেন তিনি। কৈবল্য তারিণী কৈলাস তপোবন শ্মশান মাঠে আয়োজিত এই সভায় ভিড় উপচে পড়ে কর্মী-সমর্থকদের।
সভামঞ্চ থেকে এসআইআর ইস্যু, প্রশাসনিক রদবদল-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সুজাপুর ও মোথাবাড়ির সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: মিলছে না যুবসাথীর টাকা! দেরির কারণ জানিয়ে আশ্বাস দিলেন মমতা
যুবসাথী প্রকল্প নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মমতা। তিনি বলেন, “যুবসাথী ভাইবোনদের জন্য এই টাকা হাতখরচের মতো। কারও কাছে হাত পাততে হবে না।” আবেদনকারীদের আশ্বস্ত করে জানান, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া প্রায় শেষ, খুব দ্রুতই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।
টাকা পেতে দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় কিছুটা সময় লেগেছে। তবে সেই প্রক্রিয়া এখন শেষের পথে। পাশাপাশি যুবকদের কর্মসংস্থানের দিকেও ভবিষ্যতে আরও জোর দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিনের সভা থেকে বিরোধীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই বেশি সমালোচনা হয়। কিন্তু মানুষের সমর্থন থাকলে কোনও বাধাই টিকবে না।” কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ একাধিক জনমুখী প্রকল্পের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবে বাংলা।
একই সঙ্গে সতর্কবার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি এজেন্সি পাঠিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইছে, বলছে টাকা দেবে। ভুলেও অ্যাকাউন্ট নম্বর দেবেন না।”
সভায় উপস্থিত বহু যুবক-যুবতী জানিয়েছেন, কেউ ইতিমধ্যেই টাকা পেয়েছেন, আবার অনেকেই শীঘ্রই পাওয়ার আশায় রয়েছেন। ভোটের মুখে যুবসাথী প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও যে বাড়বে, তা স্পষ্ট।

