ওয়েবডেস্ক- বিজেপি (BJP) উৎখাত করার ডাক দিয়ে যখন তৃণমূল সুপ্রিমো রাজ্যজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তখন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে জোড়াসভা করছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Trinamool All India General Secretary Abhishek Banerjee) ।
প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ চিনতামণির বিহার সমর্থনে বালুরঘাট ও টাউনক্লাব গ্রাউন্ডে। রাজ্য সরকারের উন্নয়নের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ও স্থানীয় সাংসদের দিকে চরম ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সরব হলেন তিনি।
বালুরঘাট টাউন ক্লাব মাঠের সভা থেকে বিজেপি নেতাদের ‘বাংলা বিরোধী’ এবং ‘দিল্লির ক্রীতদাস’ বলে আক্রমণ করেন। এদিন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে তার নিজের খাসতালুকেই কড়া ভাষায় আক্রমণ তৃণমূলের সেনাপতির।
এলাকার অনুন্নয়নের অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি এখানেও কোনও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে পারেনি। জাতীয় সড়কের পরিধি বাড়ানো বা সম্প্রসারণের যে দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, তা পূরণ করা হয়নি। সংসদে বালুরঘাটের মানুষের স্বার্থে সুকান্ত মজুমদার একদিন এই নিয়ে একটা পর্যন্ত প্রশ্ন তোলেননি। বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, এই জন্য এদের আমরা বাংলা বিরোধী বলি, দিল্লির ক্রীতদাস বলি’।
অভিষেকের হুঁশিয়ারি, বালুরঘাটে যদি বিজেপির প্রতিনিধিরা যদি জেতেন, তাহলে পাড়ায় একটা ১০ ওয়াটের বাল্ব লাগাতে বা একটা টিউবওয়েল বসাতে গেলেও দিল্লির অনুমতি প্রয়োজন। দিল্লির নির্দেশ ছাড়া এরা বাংলায় এক পা-ও ফেলতে পারবে না’।
বিজেপিকে আক্রমণের পাশাপাশি ২০১১ সালের পর থেকে বালুরঘাট ও তপন বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের একটি বিস্তারিত ‘রিপোর্ট কার্ড’ এদিনের সভায় তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, ২০১১-র পর বালুরঘাটে একাধিক উন্নয়ন হয়েছে। আবাস যোজনায় ১০ হাজার পরিবারকে পাকা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১ লক্ষ ২ হাজার মায়েদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হয়েছে। ২ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষকে খাদ্যসাথী প্রকল্পে প্রতিমাসে বিনামূল্যের রেশন দেওয়া হয়। কৃষকবন্ধু প্রকল্পে ৪৭ হাজার কৃষক আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন। যুবসাথী প্রকল্পে ১৩ হাজার ৪৭৪ জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মাসে ১৫০০ টাকা পেয়েছেন। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ২ লক্ষ ৩ হাজার ৬৭৮ জন স্বাস্থ্য পরিষেবা পেয়েছেন।
আরও পড়ুন- ভোটার তালিকায় অন্য রাজ্যের লোকের নাম! অভিযোগ মমতার
কন্যাশ্রীতে উপকৃত হয়েছেন ৯৬ হাজার বোনেরা। আর বালুরঘাট বিধানসভায় পথশ্রী প্রকল্পে ২, ৩ ও ৪ নম্বর এলাকায় রাস্তাঘাট পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। অভিষেকের আরও সংযোজন, তপন বিধানসভা বাংলা আবাস যোজনায় ১২ হাজার পরিবারের উপর পাকা ছাদের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। এখানে ৭৪ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। খাদ্যসাথী প্রকল্পে রেশন পাচ্ছে ২ লক্ষ ৭৮ হাজার মানুষ। কৃষকবন্ধু প্রকল্পে আর্থিক সাহায্য পেয়েছে ৫৫ হাজার কৃষক। যুবসাথী প্রকল্পে তপনে ১৫ হাজার ৭৫৬ জন যুবক-যুবতী মাসে ১৫০০ টাকা পেয়েছেন।
কন্যাশ্রীতে ১ লক্ষ ১৩ হাজার জন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। আর রাস্তাশ্রী-পথশ্রী প্রকল্পে প্রায় ৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।” সভা শেষে বালুরঘাটে মানুষকে অভিষেক বলেন, এবার ঠিক করতে হবে সমগ্র দিনাজপুর বাংলার মানুষ পরিচালনা করবে? না দিল্লি, গুজরাত, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ বা উত্তরপ্রদেশের বহিরাগত নেতারা পরিচালনা করবেন। এই সিদ্ধান্ত আপনাদেরই নিতে হবে।

