টাকা দিয়ে প্রার্থী পদ কিনে প্রার্থী হয়েছে ,কোলাঘাটে বিস্ফোরক অভিষেক

0
25

ওয়েব ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারের (West Bengal Assembly Election 2026) বিনপুরে মেগা সভা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দলীয় প্রার্থী বীরবাহা হাঁসদার সমর্থনে এই সভা থেকে সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বকে বিজেপিকে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি। শুধু বিনপুরে নয় অভিষেকের রণদেহি মূর্তি দেখা গেল কুপলির সভাতেও।কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার তথ্য তুলে ধরে অভিষেক বলেন, ​”মোদি সরকার ১০০ দিনের কাজ বা আবাস যোজনার জন্য কোনও টাকা দেয়নি। যদি কোনও বিজেপি নেতা প্রমাণ দিতে পারেন যে তাঁরা টাকা দিয়েছেন, তবে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”​”বিস্কুট বা জিরেতে জিএসটি নেওয়া হচ্ছে, অথচ হিরেতে কোনও জিএসটি নেই। গত ১২ বছর ধরে যারা মানুষকে শুধু লাইনে দাঁড় করিয়েছে, এবার লাইনে দাঁড়িয়েই তাদের জবাব দিতে হবে।”

এই সভা থেকেও কেন্দ্রকে নিশানা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঁশকুড়া পূর্ব বিধানসভার বিজেপির প্রার্থীকে তাঁদের সমর্থকরাই পছন্দ করছে না। এখানে টাকা দিয়ে প্রার্থীপদ কিনেছে বিজেপি। মানুষের বিপদের সময় এরা পাশে থাকে না বিজেপি। তিনি আরও বলেছেন, বিজেপির রিপোর্টকার্ড নিয়ে আসার জন্য শুভেন্দু অধিকারীকে আহ্বান করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, তৃণমূল সরকারের সমস্ত কাজের হিসেব তিনি দেবেন। কিন্তু বিজেপিও তাঁদের রিপোর্ট কার্ড পেশ করুক। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে জবাব দেবে বাংলার মানুষ। ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করা উচিৎ নয়। বাংলার ভোটের কারণে এখন দাম বাড়ছে না। ভোটের পরেই রান্নার গ্যাস ২ হাজার টাকা হবে।তিনি বলেছেন, বিজেপি যা বলে সব মিথ্যে কথা বলে। বছরে ২ কোটি চাকরির কথা বলা হয়েছিল। তা দেওয়া হয়নি। মোদির গ্যারান্টির যে মিথ্যে, তা বার বার প্রমাণিত। সকাল থেকে রাত শুধু মিথ্যে কথা বলছে। লাইনে দাঁদ করিয়ে মানুষকে যেমন হেনস্থা করা হয়েছে। উন্নয়নমূলক কাজ দিল্লি থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। কোনও সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেনি। এর থেকেই বোঝানো হবে বাংলার মানুষ মাথানত করে না।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বড় ঘোষণা অভিষেকের, এবার ২০০০ টাকা করে পাবেন মহিলারা?

বিনপুরের মঞ্চ থেকে ফের একবার দিল্লির বঞ্চনা নিয়ে গর্জে ওঠেন অভিষেক। ১০০ দিনের কাজের টাকা থেকে শুরু করে সর্বশিক্ষা মিশন ও বাড়ি তৈরির টাকা আটকে রাখা নিয়ে কেন্দ্রকে তুলোধোনা করে তিনি বলেন, “এই জনবিরোধী সরকার সাধারণ মানুষের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছে। আর যখন আমরা মানুষের হক নিয়ে কথা বলতে যাই, তখন আমাদের চুলের মুঠি ধরে বের করে দেওয়া হয়।”এদিন বিজেপি-র বিরুদ্ধে দাঙ্গা বাধানো এবং ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ তৈরির অভিযোগ আনেন অভিষেক। তিনি বলেন, “তৃণমূল সবার সমর্থনে সরকার গড়ে এবং মানুষের পাশে থাকে। অন্যদিকে বিজেপি কেবল ভোটের সময় ধর্মের সুড়সুড়ি দেয়।

অন্যদিকে কুলপিতে তৃণমূল প্রার্থী বর্ণালী ধাড়ার সমর্থনে এক বিশাল জনসভা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এদিন জনসভা থেকে বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “বিজেপির ছাইপাশ ও আবর্জনাকে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলতে হবে।” দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে তিনি হুঙ্কার ছাড়েন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনা বিরোধীদের মাজা ভেঙে দেবে। মাজা ভেঙে বলবে— বলো হরি হরি বোল, বিরোধীদের খাটে তোল।” তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি প্রার্থী অবনী নস্কর ও তার পরিবারকে মানুষ চেনে। তাঁর অভিযোগ, যারা সাধারণ মানুষের জন্য কাজ না করে মত্ত অবস্থায় পড়ে থাকে, তাদের মানুষ যোগ্য জবাব দেবে। অভিষেক এই নির্বাচনকে ‘প্রতিরোধ, প্রতিবাদ ও প্রতিশোধের নির্বাচন’ বলে অভিহিত করেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কুলপির জনমানুষের জন্য রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ান পেশ করেন। কাজের খতিয়ান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, ​কুলপিতে ৭৬,১২০ জন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ৩১,০০০ জন পাকা বাড়ি এবং প্রায় ৫০,০০০ জন কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। ১৬,৯৯৬ জন সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে যুব সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে দেড় হাজার টাকা করে পেয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুলপি বিধানসভা জুড়ে ১৯৭ টি রাস্তা তৈরি করেছে।​বক্তব্যের শেষে তিনি তৃণমূল প্রার্থী বর্ণালী ধাড়াকে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, ভোট মিটলেই কেন্দ্র ফের ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেবে। তিনি বলেন, “ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি করে তারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া। ওদের ভোঁ-কাট্টা দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিতে হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here