ইরানি ‘মোল্লাতন্ত্র’র জড় রয়েছে উত্তরপ্রদেশে? জেনে নিন খামেনেই পরিবারের এই অজানা ইতিহাস

0
28

ওয়েব ডেস্ক: ১৯৭৯ ছিল মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে (History of Middle East) বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সে বছর ইরানে (Iran) শাহ মহম্মদ রেজা পাহলভির (Shah Mohammad Reza Pahlavi) রাজতন্ত্রের পতন ঘটে প্রতিষ্ঠা হয় ইসলামিক ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যাকে অনেকেই ‘মোল্লাতন্ত্র’ বলে থাকেন। এই আমূল পরিবর্তনের কেন্দ্রে ছিলেন এক ধর্মগুরু, রুহোল্লা খোমেইনি (Ruhollah Khomeini)। তবে এই বিপ্লবের নেপথ্যনায়কের শিকড় যে ভারতের মাটিতে প্রোথিত, সেই তথ্য আজও অনেকের অজানা।

আনুমানিক ১৮০০ সালে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বারাবাঁকির কিন্তুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শিয়া ধর্মগুরু সৈয়দ আহমেদ মুসাবি (Syed Ahmad Musavi)। ১৮৩০ সালে তিনি যখন ভারত ছেড়ে ইরাকে পাড়ি দেন। ইরাকে কয়েক বছর কাটানোর পর ১৯৩৪ সালে তিনি ইরানের খোমেইন শহরে বসবাস শুরু করেন। ইরানে স্থায়ী হলেও নিজের ভারতীয় পরিচয় ভুলে যাননি। নামের সঙ্গে যুক্ত করেন ‘হিন্দি’ উপাধি। শিয়া ধর্মশিক্ষক হিসেবে তিনি সম্মান অর্জন করেন। তাঁর পুত্র মোস্তফা হিন্দি এবং নাতি ছিলেন রুহোল্লাহ খোমেইনি, যিনি পরবর্তীতে ইরানের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

আরও পড়ুন: জামকারান মসজিদে লাল পতাকা! খামেনেইয়ের মৃত্যুর বদলায় চরমতম পদক্ষেপ নিতে চলেছে ইরান?

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, পশ্চিমাপন্থী নীতির বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের উত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৯৭৯ সালে শুরু হয় ইসলামিক বিপ্লব। শাহ মহম্মদ রেজা পাহলভি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। নির্বাসন থেকে ফিরে এসে রুহোল্লাহ খোমেইনি প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামিক প্রজাতন্ত্র। রাষ্ট্রক্ষমতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ‘সুপ্রিম লিডার’ পদটি তখনই সৃষ্টি হয়।

খোমেইনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি হন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ali Khamenei)। তাঁর হাত ধরেই গত কয়েক দশক ধরে ইরানে ধর্মতান্ত্রিক শাসন সুসংহত হয়। তাঁর মৃত্যুর পর ইরানের ‘অন্তর্বর্তীকালীন সুপ্রিম নেতা’ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফিকে (Ayatollah Alireza Arafi), যিনি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় উত্তরসূরী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবেন।

দেখুন আরও খবর:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here