ভিয়েতনাম, আফগানিস্তানের পর ফের পরাজয় স্বীকার আমেরিকার! দেখুন বিশেষ প্রতিবেদন

0
33

ওয়েব ডেস্ক : ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইরানের (Iran) উপর হামলা শুরু করেছিল আমেরিকা (America)-ইজরায়েল (Israel)। পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরানও। এই সংঘর্ষের প্রায় এক মাস হতে চলেছে। তার পরেও শান্ত হয়নি পরিস্থিতি। এসবের মাঝে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার আলিমেটাম দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। কিন্তু হঠাৎ করেই নিজের সিদ্ধান্ত বদল করলেন তিনি। আপাতত তিনি পাঁচ দিনের জন্য এই যুদ্ধ বন্ধ করার কথা ঘোষণা করেছেন। একপ্রকার বলতে গেলে পিছুই হটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যেমনটা ভিয়েতনাম (Vietnam) ও আফগানিস্তানে (Afganistan) হয়েছিল আমেরিকার সঙ্গে।

ভিয়েতনামের (Vietnam) বিরুদ্ধে যুদ্ধ হারা ছিল আমেরিকার কাছে বড় ব্যর্থতা। ১৯৫৫ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত চলেছিল এই সংঘর্ষ। কিন্তু সেই যুদ্ধ হারতে হয়েছে আমেরিকাকে (America)। এই যুদ্ধে হাজার হাজার মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছিল বলে খবর। তথ্য বলছে, এই যুদ্ধ হারার অন্যতম কারণ ছিল, ভিয়েতনামের গেরিলা কৌশল, মার্কিন জনমতের তীব্র বিরোধিতা, ব্যাপক প্রাণহানি এবং ভৌগোলিক অপরিচিতি। এছাড়া ২০ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রায় ১৬৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছিল।

আরও খবর : ইরান যুদ্ধে পিছু হটলেন ট্রাম্প, ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমার আগেই নির্দেশ প্রত্যাহার ট্রাম্পের, বিরাট পরাজয় আমেরিকার?

এর পর আফগানিস্তানেও (Afganistan) হার মানতে হয়েছিল আমেরিকাকে। মূলত ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সেনা। লক্ষ্য ছিল তালিবানিদের ক্ষমতাচ্যুত করা এবং ওসামা বিন লাদেনকে ধরা। তবে লাদেনকে খতম করলেও, তালিবানিদের পুরোপুরি মেটাতে পারেনি মার্কিন সেনা। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলেছিল। তবে ২০২১ সালে ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালিবান। তার পরেই একপ্রকার পালাতে হয় মার্কিন সেনাকে।

এর পরেই এবার ইরানের বিরুদ্ধে আপাতত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন ট্রাম্প (Trump)। অনেকেই মনে করছেন, একপ্রকার এই যুদ্ধ হেরে গিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্প সোমবার নিজের সোশাল মিডিয়ায় বলেছেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গত দুদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনা গোটা সপ্তাহ জুড়ে অব্যাহত থাকবে। এই আলোচনার পরেই যুদ্ধ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর কোনও ধরনের সামরিক হামলা আগামী পাঁচ দিন করা হবে না। এই স্থগিতাদেশ নির্ভর করছে আগামীদিনের আলোচনার উপরে।” ফলে এখানে আলোচনার কথা বললেও, ট্রাম্প যে বর্তমান পরিস্থিতিতে চাপে পড়েই পিছু হটেছেন তা একপ্রকার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

দেখুন অন্য খবর :

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here