Fourth Pillar | আমেরিকা–ইরান যুদ্ধ ভারতের অর্থনীতিতে ডেকে আনছে এক ভয়ঙ্কর মন্দা

0
34

২০২৬ সালের শুরুর দিকটা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটা ভালো সময় আসছে, বাজার উপরে যাচ্ছে, ট্রেড ডিল নিয়ে মেঘ কাটছে, ই ইউ ট্রেড ডিল নিয়ে উল্লাস, সব মিলিয়ে একটা অচ্ছে দিন আসছে মনে হচ্ছিল। কোভিড-১৯ মহামারীর দীর্ঘস্থায়ী ধাক্কা সামলে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অস্থিরতা কাটিয়ে যখন বিভিন্ন দেশ স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যুদ্ধ নেমে এল। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-ইজরায়েলের ইরানে চালানো সামরিক অভিযান কেবল একটা আঞ্চলিক সংঘাতের জন্ম দেয়নি, এটা সারা বিশ্বের অর্থনীতির নাড়িভুঁড়ি পর্যন্ত নাড়িয়ে দিয়েছে। এই যুদ্ধের জন্যই বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা, স্ট্যাগফ্লেশনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে, যা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এক চরম দুঃসংবাদ। এটা কেবল একটা তেলের দাম বাড়ার সাধারণ ঘটনা নয়, এটা সরবরাহ ব্যবস্থার এক কাঠামোগত বিপর্যয় যা ভারতের কৃষি, শিল্প, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন সবকিছুকেই এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন ইজরায়েল আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানি সামরিক পরিকাঠামো, রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর আক্রমণ চালায়, তখন থেকেই বিশ্ব অর্থনীতির পতনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে, এখন তাকে থামাতে চাইলেও সে থামবে না। আর এই যুদ্ধ তো কেবল প্লেন মিসাইল বা দ্রোনে সীমাবদ্ধ নেই, এই সামরিক সংঘাতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ভৌগোলিক রণকৌশল। ইরান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। যে পথ দিয়ে প্রায় দু’কোটি ব্যারেল তেল, বিশ্বের মোট এলএনজি-র একের পাঁচ ভাগ চলাচল করে, সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। যুদ্ধের ঠিক আগে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম যেখানে ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারের আশেপাশে ছিল, যুদ্ধের মাত্র দ্বিতীয় সপ্তাহেই তা ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই সংঘাত যদি না থামে, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে একটা সাপ্লাই শক তৈরি করেছে, ফলে উৎপাদন কমছে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা এটাকেই ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ (Stagflation) বলেন। এক বিরল আর যন্ত্রণাদায়ক অর্থনৈতিক অবস্থা, যেখানে গ্রোথ থমকে যায় বা কুঁকড়ে যায়, অথচ জিনিসপত্রের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে। ১৯৭০-এর দশকে ইয়ম কিপ্পুর যুদ্ধ, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সময় বিশ্ব অর্থনীতি এই অবস্থার মুখোমুখি হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের এই সংকট ১৯৭০-এর দশকের চেয়েও অনেক অনেক বেশি জটিল। কারণ বর্তমানের অর্থনীতি আগের চেয়ে অনেক বেশি জ্বালানি নির্ভর, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের উপর নির্ভরশীল। ১৯৭০-এর দশকে ভারতীয় কৃষকরা মূলত জৈব সার, লাঙ্গলের উপর নির্ভরশীল ছিলেন, আজকের ভারতের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা রাসায়নিক সার, ট্রাক্টর এবং পাম্পের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল, যা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির দাম বাড়লে অ্যাফেকটেড হবেই। যখন শিল্প কারখানায় গ্যাস বা বিদ্যুৎ থাকে না, তখন উৎপাদন হুট করে বন্ধ হয়ে যায়, যা অর্থনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের গ্রোথ কমাচ্ছে, মূল্যবৃদ্ধি আনছে, আসছে স্ট্যাগফ্লেশন, মন্দা।

ভারত প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ আর প্রাকৃতিক গ্যাসের অর্ধেক আমদানি করে। যুদ্ধের আগে ভারতের মোট তেলের অর্ধেকেরও বেশি আসত মধ্যপ্রাচ্য থেকে, তার এক বড় অংশ আসত হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এই পথটাই বন্ধ হওয়ায় ভারতের তেল শোধনাগারগুলো কাঁচামাল পাচ্ছে না, তেলের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে ভারতের জিডিপি রেট প্রায় ০.২ থেকে ০.২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। গোল্ডম্যান শ্যাক্সের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ভারতের ২০২৬ সালের জিডিপির পূর্বাভাস ইতিমধ্যেই ১১০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৫.৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। সরকারি হিসেবেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ধরে রাখা ৭-৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। আবার জ্বালানি তেলের হু হু করে বেড়ে যাওয়া ভারতের আমদানি খরচকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতি ১০ ডলার তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভারতের বার্ষিক আমদানি বিল প্রায় ১৩০০ থেকে ১৪০০ কোটি ডলার বেড়ে যায়। এর ফলে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি মানে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আর সেই এক্সট্রা ব্যয় মেটাতে গিয়ে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের টান পড়ছে। শুধুমাত্র ২০২৬ সালের মার্চ মাসের এক সপ্তাহেই ভারতের ফরেক্স রিজার্ভ প্রায় ১১৬৮ কোটি ডলার কমে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | ইরান আরও শক্তিশালী হচ্ছে, লাভের ঝোলা ভরছে  চীন। আমেরিকা আঙুল চুষছে

দুনিয়ার বাজারে তেলের দাম বাড়লে ডলারের চাহিদাও বাড়ে, যার ফলে ভারতীয় টাকা দুর্বল হয়ে পড়ছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষে টাকা প্রতি ডলারে ৯৫ টাকায় নেমেছে, যা ভারতের ইতিহাসের রেকর্ড। মানে হল আমাদের আমদানিকরা প্রতিটা পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়া। ফলে দেশে জিনিসের দাম বাড়ার গতি আরও বাড়ছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের অনিশ্চয়তার কারণেই বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বড় অংকের পুঁজি তুলে নিচ্ছেন। শুধুমাত্র মার্চ মাসেই প্রায় ১৩৩০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ ভারত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। এর ফলে শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে আর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোটি কোটি টাকা লোকসান করেছেন। ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় আর প্রত্যক্ষ আঘাত এসেছে রান্নার গ্যাসের, এলপিজি-র ক্ষেত্রে। ভারত তার এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করে আর তার ৯০ শতাংশই আসত হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধের ফলে কাতার, অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে এলপিজি-র আকাল দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের প্রথম দিকেই দেশে এলপিজি বুকিংয়ের চাহিদা ৩৮ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে, কারণ মানুষ ভবিষ্যতের কী পাবে বা পাবে না এই ভেবে গ্যাস মজুত করতে শুরু করেছে। গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন, কালোবাজারি শুরু হয়েছে। রেস্তোরাঁ ব্যবসাগুলো জ্বালানির অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম আর অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেট তছনছ হয়ে গিয়েছে। ওদিকে ভারত তার ইউরিয়া সারের ৪০ শতাংশ আর ডিএপি (DAP) সারের ৩২ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। এছাড়া কাতার থেকে আসা এলএনজি (LNG) ভারতের দেশিয় সার কারখানাগুলোতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যুদ্ধের ফলে কাতার থেকে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছেই না, ফলে ভারতের ইউরিয়া উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। সামনে খরিফ মৌসুম হওয়ায় কৃষকদের জন্য সারের চাহিদা তুঙ্গে, কাজেই সারের জোগান না থাকলে ফসলের ফলন ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা সরাসরি ভারতের খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। সারের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। সরকার কৃষকদের রক্ষা করতে, সারের দাম সামলে রাখতে ১৯,২০০ কোটি টাকার ভর্তুকি ঘোষণা করেছে, যা সরকারের কোষাগারের উপর বিশাল চাপ। সারের এই সংকটের প্রভাব আগামী ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত চলবে, যার ফলে খাদ্যপণ্যের দাম লম্বা সময় ধরে চড়েই থাকবে।

সংকট একটা, আরও আছে ভারত বিশ্ববাজারে চাল আর চায়ের প্রধান রফতানিকারক দেশ। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ ভারতের এই রপ্তানিকে প্রায় আটকে দিয়েছে। ভারতের মোট বাসমতি চাল রফতানির প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ যায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে। ইরান একাই ভারতের বাসমতি চালের ১৫-২০ শতাংশ ক্রয় করে থাকে। যুদ্ধের ফলে প্রায় ৪ লক্ষ মেট্রিক টন বাসমতি চাল ভারতের বিভিন্ন বন্দরে, মাঝসমুদ্রে আটকা পড়ে আছে। জাহাজগুলো এখন হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছে। এর ফলে পরিবহণ সময় ২৫ দিন থেকে বেড়ে ৪৫ দিন হয়ে গিয়েছে আর কন্টেনার ভাড়া তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় হয় লাভ হবে না, না হলে দাম বাড়াতে হবে, দাম বাড়ালে বিক্রি হবে না। আবার দেশের বাজারে চালের জোগান বেড়ে যাওয়ায় বাসমতি চালের দাম ১০ শতাংশের মতো কমে গিয়েছে, যা সরাসরি কৃষকদের আয়ে টান ফেলছে। একই অবস্থা অসম আর দার্জিলিংয়ের চা শিল্পেরও। ইরান ভারতের অর্থোডক্স চায়ের এক বিশাল বাজার। যুদ্ধের ফলে এই চায়ের চালানগুলো কলকাতা বন্দরেই থমকে আছে। লজিস্টিক সমস্যা আর ইরানের সাথে পেমেন্ট চ্যানেলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চায়ের নিলামে দাম পড়ে যাচ্ছে। দুবাই, যা ভারতীয় চায়ের এক প্রধান রি-এক্সপোর্ট কেন্দ্র ছিল, মানে তারা কিনে বেচত সেখানেও অস্থিরতা।

ভারতের প্লাস্টিক, টেক্সটাইল কেমিক্যাল শিল্প সরাসরি অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে ন্যাপথা পলিমারের মতো কাঁচামালের দাম গত কয়েক দিনেই ৫০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে ভারতের প্রায় ৩০,০০০ ক্ষুদ্র মাঝারি প্লাস্টিক কারখানা বন্ধ হওয়ার মুখে। এই কারখানাগুলোতে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ কাজ করেন, যাদের জীবিকা এখন হুমকির মুখে। প্যাকেজিং উপাদানের দাম বাড়লে প্রতিটা এফএমসিজি পণ্য, সাবান, ডিটারজেন্ট, বিস্কুট প্যাকেটকরা খাবারের দাম বেড়ে যায়। ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে এই আচমকা বেড়ে যাওয়া খরচ ক্রেতাদের উপর চাপানো যেমন কঠিন, তেমনি নিজেদের পকেট থেকে বহন করাও অসম্ভব। টেক্সটাইল শিল্পের সিনথেটিক ফাইবার যেমন পলিয়েস্টার নাইলনের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় পোশাকের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এর ফলে সুরাট তিরুপুরের মতো পোশাক উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে কাজ কমে যাচ্ছে, শ্রমিকরা ছাঁটাইয়ের মুখে পড়ছেন। এক ভয়ঙ্কর ছবি আসছে প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে, পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় ৯০ লক্ষ ভারতীয় কাজ করেন, যারা প্রতি বছর ভারতের অর্থনীতিতে প্রায় ৫০০০ কোটি ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠান। যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতিও সংকটের মুখে পড়েছে। সৌদি আরব, কাতার কুয়েতের মতো দেশগুলোতে যুদ্ধের আঁচ লাগায় ভারতীয় কর্মীদের কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই ৫২,০০০-এর বেশি ভারতীয়কে সরিয়ে আনা হয়েছে। যদি এই যুদ্ধের পরিধি বাড়ে এবং ভারতীয়রা দলে দলে দেশে ফিরে আসতে শুরু করেন, তবে ভারত কেবল বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক কারেন্সি হারাবে না, দেশে ফিরে আসা এই মানুষদের নতুন করে কাজ দেওয়া সরকারের জন্যও এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এবং প্রশ্ন উঠছে মজুদ জ্বালানি ভান্ডার নিয়ে, যদিও কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে, ভারতের মজুদ ৪০-৫০ দিনের চাহিদার সমান, তবুও একটা ১৪০ কোটি মানুষের দেশের জন্য এটা যথেষ্ট নয়। সরকার এখন এই বিপর্যয় সামাল দিতে রাশিয়ার কাছ থেকে আরও বেশি তেল কেনার আর আফ্রিকা, আমেরিকার মতো অ-হরমুজ রুটগুলো দিয়ে তেল আমদানির চেষ্টা করছে। বর্তমানে ভারতের মোট তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে অন্য পথে আসছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল ৫৫ শতাংশ। তবে এই দীর্ঘ পথ দিয়ে তেল আনতে খরচ অনেক বেশি পড়ছে, যা তেলের দামকে বাড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে এক মন্দা ধীরে ধীরে নেমে আসছে দেশের উপরে, আর সেই মন্দা শেয়ার বাজার থেকে রান্নাঘর সবজায়গাকেই ছুঁয়ে যাচ্ছে। এই মন্দা কাটবে যুদ্ধ থামলে, তার আগে নয়, কাজেই যুদ্ধের বিরুদ্ধে মতামত জানানোটা খুব জরুরি।

দেখুন আরও খবর:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here