অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সবাইকে নিরপেক্ষ হতে হবে, নির্বাচন কমিশন ছাড়া? প্রশ্ন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

0
37

ওয়েবডেস্ক- আইএস (IAS), আইপিএস (IPAS)  অন্য রাজ্যে বদলি মামলা (Transfer case) । সওয়াল পাল্টা সওয়ালে উত্তপ্ত হল হাইকোর্ট চত্বর মামলার পরবর্তী শুনানি শুক্রবার।  হাইকোর্টে (High Court)  জনস্বার্থ মামলা (Public interest litigation) দায়ের হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ সওয়াল জবাব।

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী  দামা শেষাদ্রি নাইডু (Election Commission lawyer Dama Seshadri Naidu) বলেন, নির্বাচন ঘোষণা থেকে ফলাফল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন প্রভূত ক্ষমতা ভোগ করে। কমিশন রাজ্য এবং কেন্দ্রের ক্ষমতা নিয়ে নিতে পারে নির্বাচন যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করা যায় সেদিকে তাকিয়ে। সংবিধান প্রণেতা বাবা সাহেব আম্বেদকরও এটার উপর জোর দিয়েছিলেন।

নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর কমিশন রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে সংযোগ সাধন করতে পারে যাতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। পক্ষপাতহীন নির্বাচনের জন্য কমিশন কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের বদলি করতে পারে।

এর প্রেক্ষিতে তিনি বিভিন্ন হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে রায় উল্লেখ করে আদালতে পেশ করেন। নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিতে পারেন। কিন্তু সেগুলো মেনে চলা না চলা কমিশনের উপর নির্ভর করে।

আইনজীবী দীর্ঘ সওয়াল জবাবে বলেন, নির্বাচনী পরিস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসার ও সহ রিটার্নিং অফিসাররা সবাই বদলি হয়েই কাজে আসে। কমিশনের ক্ষমতা আছে যেকোনও  আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার। মামলাকারীর আদৌ ক্ষমতা আছে? নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাকে  চ্যালেঞ্জ করে এই ধরনের জনস্বার্থ মামলা করে প্রশ্ন তোলা যায় না। কমিশনই শেষ কথা। কমিশন লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার তাগিদে আইনি যেকোনও পদক্ষেপ করতে পারে। কমিশনের আইনজীবী  দামা শেষাদ্রি নাইডু, এই ধরনের মামলা করার ব্যাপারে তিনি ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের রায় আদালতে পেশ করেন।

আরও পড়ুন-  অভিষেকের নাম বিচারাধীন, শুভেন্দু ডিলিটেড!

আইনজীবী নাইডু বলেন, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের বদলি করার জন্য কোন কারণ দর্শাতে হয়  না। কমিশনের ক্ষমতা আছে বদলি করার, নির্দিষ্ট আধিকারিককে মনোনিত করার। তার জন্য কাউকে সে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। এটা সম্পূর্ণ সার্ভিস বিষয় এটা কখনও জানস্বার্থ মামলা হতে পারে না।

আবেদনকারী অর্ক কুমার নাগের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Lawyer Kalyan Banerjee) প্রশ্ন তোলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সবাইকে নিরপেক্ষ হতে হবে খালি নির্বাচন কমিশন ছাড়া?  দুই পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল  বলেন, আপনি মামলার বাইরে গিয়ে কথা বলবেন না। কারণ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে এই মামলা দায়ের করা হয় নি।

আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে বলেন,  আইনসভা যাদের নিয়োগ করেছে তাদেরকে মান্য করাও কমিশনের কাজ। কমিশনকে সীমা লঙ্ঘন করা উচিত নয়। নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা অসীম কিন্তু তা আইনের বাইরে নয়। এক্তিয়ার বর্হিভুত নয়।

অর্ক কুমার নাগ আইন নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি রাজ্যের হয়ে মামলায় সওয়াল করেন। আইনজীবীরা কেউ সরকারের কর্মচারী নয়। ফলে সে  জনস্বার্থ মামলা করে কিছু ভুল করেনি। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী, সরকারি আইনজীবী জনস্বার্থ মামলা করতে পারে না সেই সওয়ালের প্রেক্ষিতে।

রাজ্যে কি মুখ্যমন্ত্রী নেই?  আগামী ৬ মে পর্যন্ত বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব রাজ্যে রয়েছেন। রাজ্যে সাধারণ মানুষের কাছে দায়বদ্ধ কোন রকম ঘটনা ঘটলে তার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য মন্ত্রীরা। কিন্তু আধিকারিকদের যদি এইভাবে স্থানান্তর করা হয় রাজ্যে যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তার দায়ভার কার?  সাধারণ মানুষ তো মন্ত্রীদের কাছেই জবাবদিহি চাইবে। নির্বাচন কমিশন তো তার জবাব দেবে না। তামিলনাড়ু সরকার এসে তো জবাবদিহি করবে না। তাই মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের উন্নয়নের মেশিনারি যদি সড়িয়ে নেওয়া হয় তাহলে কাজ হবে কি করে? প্রতিদিন রিটার্নিং অফিসারদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। রাজ্যের সাথে আলোচনা না করেই ৭০ জন রিটার্নিং অফিসার কেস স্থানান্তর করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here