কলকাতা: ছাব্বিশে পশ্চিমবঙ্গে ২ দপায় বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) হতে চলেছে। তৃণমূল ২৯১ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। বিজেপি ও সিপিএম দু’দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। রাজ্য অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে বেনজির পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)। ভোট যাতে রক্তপাতহীন নির্বাচন হয়, সেটা নিশ্চিত করতে বেনজিরভাবে ২৫০০ কোম্পানি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) মোতায়েন করা হবে। কমিশন সূত্রের খবর, প্রতি দফাতে প্রায় আড়াই লক্ষ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান কাজ করবেন।
কমিশন জানিয়েছে প্রতি দফায় প্রায় ২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। কোথায়, কত মোতায়েন করতে হবে, শান্তিতে ভোট করাতে কত কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন, এছাড়াও স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা কত বৃদ্ধি পেল, এসব নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বুধবার আলোচনা হয় নির্বাচন কমিশনের। জেলা থেকে রিপোর্ট আসার পরই আধা সেনা মোতায়েনের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন।নাকা চেকিং থেকে এবার লাইভ স্ট্রিমিং। রাজ্যে বিধানসভা ভোটকে মাথায় রেখে এবার প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নাকা চেকিং-এ লাইভ স্ট্রিমিং-য়ের সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। লাইভ স্ট্রিমিং-এর জন্য বসানো হবে অত্যাধুনিক পিটিজেড ক্যামেরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার করা গাড়িতে বসানো থাকবে অত্যাধুনিক এই ক্যামেরা। ৩৬০ ডিগ্রি কভার করতে পারে অত্যাধুনিক এই ক্যামেরা। চলমান যে কোনও বস্তুকেই ট্র্যাক করতে পারে এই ক্যামেরা।
আরও পড়ুন: ৩০ বছর পর বিধানসভা নির্বাচনে লড়বেন অধীর চৌধুরি? দেখুন বড় খবর
কমিশনের নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে সংলগ্ন এলাকা, অর্থাৎ ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’-তে যদি হিংসা বা ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে, তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বুথে পুনর্নির্বাচন হতে পারে। এমনকি বুথের ভেতরে ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হলেও এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।এতদিন পর্যন্ত পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত মূলত নির্ভর করত বুথের ভেতরের পরিস্থিতির ওপর, যেমন হিংসা বা জাল ভোটের অভিযোগ। কিন্তু এবার সেই সীমা বাড়িয়ে বুথের বাইরের পরিবেশকেও গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এবার শুধু ভোটের আগে ‘এরিয়া ডমিনেশন’ বা বুথের নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ রাখা হবে না; প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও তাদের ব্যবহার করা যাবে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

