গান্ধীনগর: ৯ আগের কথা বেমালুম ভুলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)৷ আর তাই, ২০১২ সালে বিএসএফের(BSF) ক্ষমতা বৃদ্ধির বিরোধিতা করেও ২০২১ সালে নিজেই বিএসএফের পরিসর বৃদ্ধি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি৷
সম্প্রতি বিএসএফের(BSF) পরিসর বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্র৷ যা নিয়ে দেশের বিজেপি (BJP) শাসিত রাজ্য চুপ থাকলেও বিরোধীরা সরব হয়েছে৷ পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্য সরকার নিজ নিজ বিধানসভায় এই পরিসর বৃদ্ধির বিরোধিতায় প্রস্তাব পাশ করিয়েছে৷ ঠিক যেমন ২০১২ সালে কেন্দ্রের ইউপিএ সরকারের আমলে গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ’কে চিঠি লিখেছিলেন৷ ২০১২ সালের ১৪ এপ্রিলের চিঠিতে এখনকার বিরোধীদের মতোই একই ইস্যু তুলে ধরেছিলেন মোদি৷ আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলছেন বিরোধীরা৷
দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে দেওয়া চিঠিতে মোদি লিখেছিলেন, ‘বিএসএফের যে ক্ষমতা বৃদ্ধির কথা হচ্ছে তা, কার্যত একটি রাজ্যের মধ্যে আরও একটি রাজ্যের জন্ম দেওয়ার সমান৷ ১৯৬৮ সালের বিএসএফ আইনের সংশোধন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে মোদি আরও অভিযোগ করেন যে, দেশের যে কোনও জায়গায় বিএসএফকে গ্রেফতারির ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে দেশের যে কেউ বলবে রাজ্যের মধ্যে আরও একটি রাজ্য তৈরি করা হচ্ছে৷ এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙ্গে ফেলার অন্যতম চক্রান্ত বলেও অভিযোগ করেছিলেন গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷
কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণার পর থেকেই সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের(BSF)এক্তিয়ার বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে সরব হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস(TMC)। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভায় বিরোধী প্রস্তাবও পেশ করা হয়। বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধি সংক্রান্ত এই প্রস্তাব ভোটাভুটিতে ১১২-৬৩ ভোটে পাস হয়ে গেল বিধানসভায়।
এই প্রসঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় পরে জানায়, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্পূর্ণভাবে এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ বলেও এদিন দাবি করেন পার্থ। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর এই সিদ্ধান্ত খর্ব করছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
আরও পড়ুন-ত্রিপুরার পুরভোটে ৯ দফার ইস্তেহার প্রকাশ তৃণমূলের
মাস কয়েক আগে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে এবার থেকে বিএসএফ রাজ্যের অভ্যন্তরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটারের বদলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত নজরদারির করতে পারবে। বিএসএফ সম্পর্কে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরেই অবিজেপি রাজ্যগুলি মুখ খোলে। এই সিদ্ধান্ত রাজ্য পুলিশ-রাজ্য সরকারের অধিকার খর্ব করছে বলেও অভিযোগ ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কংগ্রেস এমনকি সিপিএম-ও এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়। এই প্রসঙ্গেই আজ(এক্তিয়ার বৃদ্ধি সংক্রান্ত) বিরোধিতা-প্রস্তাব পেশ হয় বিধানসভায়। পরে বিজেপির বিরোধিতা সত্ত্বেও তা সহজেই পাস হয়ে যায়।
অন্যদিকে, বুধবার বিএসএফের এডিজি স্পষ্ট করেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র তাদের এক্তিয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে৷ খুরানিয়ার মতে, রাজ্য পুলিশের সঙ্গে বিএসএফের সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত৷ বেশ কিছু অভিযান বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশ একসঙ্গে করে থাকে৷ এর পরই তাঁর সংযোজন, বিএসএফের কাজ চোরাচালানকারী এবং বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের রোখা৷ রাজ্যের বা রাজ্য পুলিশের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা নয়৷
আরও পড়ুন- করোনা মোকাবিলায় ভালো কাজ, স্কচ গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেল বিধাননগর পুরসভা
নাম না করে কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমের সংবাদকে কটাক্ষ করতেও এদিন এডিজি ছাড়েননি৷ তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছে বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধি ঘটানো হয়েছে৷ তারা পুলিশের অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে৷ কিন্তু এই মন্তব্য সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং ভুল৷ বিএসএফ প্রয়োজনে আটক করতে পারে৷ তা করা হয় শুধুমাত্র চোরাচালান রুখতে বা বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে৷ কোনওভাবেই রাজ্যের অধিকার খর্ব করতে নয়৷ বিএসএফের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত৷ আইনে তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধির ঘটানো হয়নি বা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সে ব্যাপারে প্রস্তাবও দেওয়া হয়নি৷ সব থেকে বড় কথা আইনশৃঙ্খলায় হস্তক্ষেপ করার মত অধিকার বিএসএফের নেই৷’