গ্যাস সংকট ঠেকাতে প্রকাশ্যে রাজ্যের ১০ দফা নির্দেশিকা

0
34

কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ (Iran War) পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও। এই পরিস্থিতিতে এলপিজি সরবরাহ (LPG Distribution) নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government)। গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে নবান্নের (Nabanna) তরফে জারি করা হল ১০ দফা বিশেষ নির্দেশিকা (এসওপি)।

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সাধারণ মানুষের রান্নাঘর, মিড ডে মিল এবং হাসপাতালের পরিষেবাকে। অন্যদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত হোটেল ও রেস্তরাঁয় বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে অনেক জায়গায় অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। কোথাও আবার বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ উঠছে। কালোবাজারি ঠেকাতে ও সাধারণ মানুষের আতঙ্ক দূর করতে নজরদারি কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন: দক্ষিণেশ্বর থেকে বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা! ব্রিগেডে মোদির মঞ্চে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া

সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য খোলা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইনও। গ্যাস সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হলে নিচের নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করা যাবে,

হেল্পলাইন: ১০৭০
ল্যান্ডলাইন: ০৩৩-২২১৪৩৫২৬
মোবাইল: ৮৬৯৭৯৮১০৭০

প্রসঙ্গত, বুধবার রাজ্যের বিভিন্ন তেল সংস্থা ও গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, গ্যাস সরবরাহে যাতে কোনও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে দিকে কড়া নজর রাখবে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকেও সমন্বয় রেখে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।

নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার দিতে হবে সাধারণ গৃহস্থের রান্নাঘরকে। পাশাপাশি হাসপাতাল, স্কুলের মিড ডে মিল প্রকল্প, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং ছাত্রাবাসগুলিতেও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় হোটেল রেস্তরাঁয় বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। গ্যাস সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এবং ভারত পেট্রোলিয়ামের মতো তেল সংস্থাগুলিকে।

এছাড়াও নির্দেশিকায় সাধারণ মানুষকে গ্যাস বা জ্বালানি সংকট সংক্রান্ত গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কেউ যদি ভুয়ো খবর বা আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে নজরদারি কমিটিকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here