11.7 C
New York

অ্যাসিড হামলার শিকারদের সরকারি চাকরি নয় কেন? কেন্দ্র-রাজ্যকে নীতি তৈরির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Must Read

নয়াদিল্লি: অ্যাসিড হামলায় আক্রান্তদের পুনর্বাসন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার দেশের শীর্ষ  আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অ্যাসিড হামলার শিকারদের জন্য সরকারি চাকরির সুযোগ তৈরির একটি সুস্পষ্ট নীতি তৈরি করতে হবে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে। পাশাপাশি, যদি কোনও কারণে সরকারি চাকরি দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে তাঁদের জন্য নিয়মিত জীবিকা ভাতা বা সাবসিস্টেন্স অ্যালাউন্সের ব্যবস্থাও করতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

এই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে জানাতে হবে কেন এখনও পর্যন্ত অ্যাসিড হামলায় ভুক্তভোগীদের সরকারি দফতর বা সংস্থায় চাকরির মাধ্যমে পুনর্বাসনের কোনও প্রকল্প তৈরি করা হয়নি।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে বিতর্কে পাল্টা নবান্ন! ‘কোনও প্রোটোকল ভাঙা হয়নি’, শাহের মন্ত্রককে রিপোর্ট

বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি কোনও প্রশাসনিক বা বাস্তব সমস্যা থাকে, তবে অন্তত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি সুসংহত নীতি তৈরি করা উচিত।

শাহিন মালিকের মামলার শুনানিতে নির্দেশ

অ্যাসিড হামলার শিকার শাহিন মালিকের মামলার শুনানি চলাকালীন এই নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালতে শাহিনের পক্ষে বিনা পারিশ্রমিকে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা। আদালতের অনুরোধেই তিনি এই মামলায় প্রো বোনো ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

নিজের আবেদনে শাহিন মালিক জানান, অ্যাসিড হামলায় আক্রান্তদের দৈনন্দিন জীবনে বহু ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, আধার কার্ড পাওয়া, সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন বা আপডেট করা— এমনকি মোবাইল সিম কেনার মতো সাধারণ কাজও অনেক সময় অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে।

KYC প্রক্রিয়ায় বড় সমস্যা

আদালতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরা হয় KYC বা ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ যাচাইকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই ডিজিটাল উপায়ে চোখের মণি স্ক্যান, মুখ শনাক্তকরণ বা আঙুলের ছাপ দিয়ে যাচাইকরণ করা হয়। কিন্তু অ্যাসিড হামলায় মুখ বা আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক সময় এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয় না। ফলে ব্যাংকিং-সহ বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়তে হয় ভুক্তভোগীদের।

কঠোর শাস্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছিল আদালত

এর আগেও একই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট অ্যাসিড হামলার মতো অপরাধে আরও কঠোর শাস্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল। আদালত মন্তব্য করেছিল, এই ধরনের অপরাধে অভিযুক্তদের সম্পত্তি জব্দ করে নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভুক্তভোগীদের দেওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ ভবিষ্যতে অ্যাসিড হামলায় আক্রান্তদের পুনর্বাসন, আর্থিক সুরক্ষা এবং বিচারব্যবস্থার কঠোরতা, সবক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Latest News

ভোট চলাকালীন কর্তব্যে গাফিলতি, জগদ্দলের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে সাসপেন্ড কমিশনের

ওয়েবডেস্ক-  ভোট (2026 West Bengal Assembly Election)  চলাকালীন কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ খোদ জগদ্দলের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের (Jagaddal Additional Commissioner Of...

More Articles Like This