বাঘ-চিতার সুরক্ষায় ‘লাল ব্লক’ হাইওয়ে! ভারতের প্রথম ওয়াইল্ডলাইফ-সেফ রোডে গতি কমবে কীভাবে?

0
29

ওয়েব ডেস্ক: বনাঞ্চল পেরোনো জাতীয় সড়কে (National Highway) বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা রুখতে অভিনব উদ্যোগ নিল মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh)। ভোপাল (Bhopal) থেকে জবলপুর (Jabalpur) যাওয়ার পথে জাতীয় সড়ক ৪৫-এর একটি অংশে চালু হয়েছে দেশের প্রথম ‘ওয়াইল্ডলাইফ-সেফ রোড’ (Wildlife Safe Road)। দুবাইয়ের শেখ জায়েদ রোডের প্রযুক্তি অনুসরণে তৈরি এই বিশেষ হাইওয়ের লক্ষ্য— গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাঘ, চিতা-সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীকে সুরক্ষা দেওয়া।

হাইওয়ের নির্দিষ্ট অংশে পিচের উপর বসানো হয়েছে ৫ মিলিমিটার পুরু থার্মোপ্লাস্টিকের লাল চৌকো ব্লক। দ্রুতগতির গাড়ি এই লাল মার্কিং জোনে ঢুকলেই চাকার গ্রিপ বৃদ্ধি পায় এবং স্বাভাবিকভাবেই গতি কিছুটা কমে আসে। ব্রেক কষার প্রয়োজন না পড়লেও রাস্তার বিশেষ টেক্সচার গাড়িকে সতর্ক করে দেয়। রাতের অন্ধকারে হেডলাইটের আলোয় লাল ব্লকগুলি আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলেই মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: জম্মু-কাশ্মীরে উড়ে আসা বেলুনে সাঁটানো পাকিস্তানি নোট! রয়েছে ফোন নাম্বার সহ স্ক্যানার

বনদফরের দাবি, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও টাইগার রিজার্ভ সংলগ্ন এলাকায় প্রায়ই দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়। সেই সমস্যা মোকাবিলায় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। জাতীয় সড়ক ৪৫-এর প্রায় ১২ কিলোমিটার জুড়ে বসানো হয়েছে এই লাল ব্লক, যার মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার অংশ বীরেঙ্গনা দুর্গাবতী টাইগার রিজার্ভের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে।

চালকরা লাল মার্কিং দেখেই বুঝতে পারবেন যে তাঁরা সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ করেছেন এবং গতি কমানো জরুরি। নিয়ম না মানলে জরিমানার ব্যবস্থাও থাকছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের অন্যান্য বনাঞ্চল সংলগ্ন হাইওয়েতেও একই মডেল চালু করা হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here