কলকাতা: দোরগোরায় বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)। তার আগে পশ্চিমবঙ্গবাসীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। ‘জয় মা কালী’ দিয়ে শুরু হওয়া চিঠিতে সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর কৌশল জানালেন মোদি। ইতিমধ্যেই সেই চিঠি ঘরে ঘরে বিলি করা হচ্ছে বলে বিজেপি (BJP) সূত্রে খবর। চিঠির হিন্দি সংস্করণও অনলাইনে শেয়ার করা হয়েছে। ভোটের আগে এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে বড় তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শাসক তৃণমূল কংগ্রেসকে রাজ্যের ‘অনুন্নয়ন’-এর জন্য দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘সোনার বাংলা’র মানুষ প্রতারিত হয়ে চলেছেন। বিজেপির দীর্ঘদিনের ‘ঘুসপেটিয়া’ ইস্যুকেও ফের সামনে এনেছেন তিনি। মোদির দাবি, ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির কারণে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে রাজ্য সরকার নরম মনোভাব দেখিয়েছে। পাশাপাশি, বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি লিখেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে আসা অ-মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুন: মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রীর, বাংলা ও ইংরেজিতে সোশ্যাল মাধ্যমে পোস্ট
Prime Minister Narendra Modi wrote a letter in Bengali and Hindi urging voters to support the BJP’s “Ebar BJP Sarkar” slogan. He highlighted concerns over illegal immigration, violence against women, and pledged to develop and make Bengal prosperous and safe. pic.twitter.com/V9IXnimtGk
— IANS (@ians_india) February 23, 2026
চিঠিতে বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাসের কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলার প্রয়োজন ‘নয়া দিশা’। গত ১১ বছরে কেন্দ্র সরকার কৃষক, যুবক, মহিলা ও দরিদ্রদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। জনধন যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা লক্ষ লক্ষ মানুষ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন মোদি। তবে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন তিনি।
চিঠিতে নারী নিরাপত্তা, রাজনৈতিক হিংসা ও ভুয়ো ভোটারের প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যে ‘সুশাসন’ প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও এই চিঠি নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি ও তৃণমূলের সরাসরি লড়াই আরও তীব্র করতেই এই কৌশল।
