শংকরের মহাপ্রয়াণে শোকাহত মুখ্যমন্ত্রী? কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

0
74

কলকাতা: সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত বর্ষীয়ান সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় (Manishankar Mukhopadhyay), যাঁকে বাঙালি পাঠক আজীবন চিনেছে শংকর (Shankar Passes Away) নামে। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্যজগতে সৃষ্টি হল এমন এক শূন্যতা, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে থেকে গেল তাঁর কালজয়ী সৃষ্টি—যেগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাঠকের মননে বেঁচে থাকবে।

শংকরের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শোকবার্তায় তিনি লেখেন, “বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় (শংকর)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হল। ‘চৌরঙ্গী’ থেকে ‘কত অজানারে’, ‘সীমাবদ্ধ’ থেকে ‘জনঅরণ্য’—তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে।” মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে শংকরের গবেষণা ও গ্রন্থসমূহের গুরুত্ব, যা আমাদের সাংস্কৃতিক ভাণ্ডারের অমূল্য সম্পদ।

আরও পড়ুন: সাহিত্য জগতে নক্ষত্রপতন! না ফেরার দেশে ‘চৌরঙ্গী’র স্রষ্ঠা শংকর!

পাশাপাশি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও (Sukanta Majumdar) সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তা দিয়ে শংকরের প্রয়াণের শোকপ্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় (শংকর)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।’ বিজেপি নেতা তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, ‘করুণাময় ঈশ্বরের কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার সদগতি কামনা করি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও অসংখ্য গুণমুগ্ধ পাঠকের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা।’

১৯৩৩ সালে বনগাঁয় জন্ম শংকরের। শৈশবের কিছুটা সময় কেটেছে সেখানেই। পরে সপরিবারে চলে আসেন হাওড়ায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্থির সময়, জাপানি আক্রমণের আতঙ্কে পরিবার ফিরে গেল বনগাঁয়—কিন্তু কিশোর শংকর থেকে গেলেন বাবার সঙ্গে। স্বাধীনতার বছরেই জীবনে নেমে আসে প্রথম বড় আঘাত—পিতৃবিয়োগ। সম্বলহীন এক কিশোরের সামনে তখন কঠিন বাস্তব। জীবিকার প্রয়োজনে কখনও অফিসের কেরানির কাজ, কখনও গৃহপরিচারক, এমনকি হকারিও করেছেন তিনি। জীবনের এই কঠোর সংগ্রামই পরবর্তীকালে তাঁর লেখায় বাস্তবতার তীক্ষ্ণ রং এনে দেয়।

তবে কেবল জনপ্রিয় লেখক নন, নিজস্ব লেখনভঙ্গির জন্যও শংকর ছিলেন স্বতন্ত্র। নগরজীবনের বাস্তবতা থেকে ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার গভীর প্রশ্ন—সব ক্ষেত্রেই ছিল তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ। স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও দর্শন নিয়ে লেখা তাঁর গ্রন্থগুলি দীর্ঘদিন বেস্টসেলার তালিকায় স্থান পেয়েছে। পাঠকের সঙ্গে তাঁর এই গভীর সংযোগই তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।

দেখুন আরও খবর:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here