কলকাতা: ‘আঘাত করলে আমার পুনর্জন্ম হয়’—রাজপথে হুঙ্কার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। আইপ্যাক তল্লাশির প্রতিবাদে শুক্রবার পথে নামেন মমতা। যাদবপুরের 8B (Jadavpur 8b Bus Stand) থেকে মেগা মিছিল শুরু হয়ে শেষ হয় হাজরা মোড়ে। মিছিলে শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে কেন্দ্রকে আক্রমণ শানান তৃণমূনেত্রী। মমতা বলেন, “আঘাত করলে আমার পুনর্জন্ম হয়।” স্লোগান, হাততালি আর ক্ষোভের ঢেউয়ে কার্যত জনসমুদ্রে রূপ নেয় মিছিল।
আইপ্যাকের ঘটনাকে সামনে রেখে প্রতিবাদ মিছিলের পরে হাজরার সভা থেকেও তীব্র সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁর ‘পুনর্জীবন’ হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন মমতা। তিনি বলেছেন, “আমাকে কেউ আঘাত করলে, পুনর্জীবন হয়। গত কাল ভাবছিলাম, আবার নতুন করে জন্মালাম।” এর পরেই বিজেপিকে ফের ‘জুমলা পার্টি, অত্যাচারী, অনাচারী’ প্রভৃতি নানা অভিধা দিয়ে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লির ‘বঞ্চনা’ ও কেন্দ্রীয় সংস্থার ‘অতি-সক্রিয়তা’র বিরুদ্ধে রাজপথকেই লড়াইয়ের ময়দান ঘোষণা করল তৃণমূল। হাজরা মোড়ে দাঁড়িয়ে মমতার বার্তা স্পষ্ট—প্রতিবাদের জবাব দেবে মানুষই। ইডি-র তল্লাশি ঘিরে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন-এর বাড়ি ও অফিসে অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল ও নথি ‘ছিনতাই’ করতেই এই হানা। আঙুল ওঠে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর দফতরের অধীন ইডি-র দিকে।
আরও পড়ুন: প্রতিবাদে পথে মমতা, মিছিলে শামিল নেতা-কর্মী থেকে টলিপাড়া
মমতার এসআইআর হুঙ্কার, “৯০ বছরের বৃদ্ধকে ডাকছ, লজ্জা করে না! দুকান কাটা দল। পাটি না দোপাটি। আপনারা কেন পদত্যাগ করবেন না। বলছে, বাংলায় রোহিঙ্গা ভর্তি, একটাও খুঁজে পায়নি। রোহিঙ্গা যদি থাকে তাহলে অসমে এসআইআর হল না কেন, ওরা তো বাংলাদেশ থেকে অসম বর্ডার দিয়ে ঢোকে।” জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ’ কুমার কটাক্ষ করে মমতা আরও বলেন, “তুমি একদিন আটকাবে, ১০০ দিন দেখিয়ে দেব। আমাকে একদিন জেলে ভরবে, আমি তোমাকে গোটা পৃথিবীর জেলে ভরব। জিএসটির টাকা তুলে নিয়ে যাও, আমাদের টাকা দাও না, আমাদের দাও। রাস্তার টাকা বন্ধ, জলের টাকা বন্ধ, জীবনের টাকা বন্ধ বসিয়েছে একজনকে, সে কে – হোম মিনিস্টারের লোক। আপত্তি নেই। ভ্যানিশ কুমার যদি ভোট ভ্যানিশ করে দেয়, তাহলে আপত্তি আছে। আপনি কি ম্যাজিশিয়ান।”