কলকাতা: আরজি করের (RG Kar Case) অভয়ার (Abhaya) স্মৃতিতে তৈরি ‘ক্রাই অফ দ্য আওয়ার’ (Cry of the hour) মূর্তি আদতে নকল—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন শিল্পী সুদীপ্ত বেতাল। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে তৈরি ওই মূর্তিটি আসলে তাঁর ২০১৯ সালে আঁকা একটি ছবির হুবহু অনুকরণ। মূর্তির নির্মাতা ভাস্কর অসিত সাঁই নকল করেছেন বলেই অভিযোগ।
সুদীপ্তর বক্তব্য, তিনি ২০১৯ সালের ২৪ আগস্ট ওই ছবিটি এঁকেছিলেন। গুগল ফটোজে সংরক্ষিত সেই ছবির তারিখ ও সময়-সহ প্রমাণও সামনে এনেছেন তিনি। আর্কাইভ অনুযায়ী, ছবিটি আঁকার প্রায় পাঁচ বছর পর তৈরি হয়েছে আর জি করের ওই বিতর্কিত মূর্তি।
আরও পড়ুন: প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে আইনজীবীকে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার বাংলারই তরুণী
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর পর মূর্তি তৈরি করে অসিত সাঁই দাবি করেছিলেন, ঘটনার আকস্মিকতায় যন্ত্রনার ছবি নাকি তাঁর চেতনায় ভেসে ওঠে। কিন্তু সুদীপ্তর দেওয়া তথ্য সেই দাবি মিথ্যে প্রমাণ করছে বলেই দাবি শিল্পীমহলের একাংশের।
এর আগেও আর জি করের মূর্তি ঘিরে বিতর্ক কম হয়নি। প্রথমে অসিত সাঁই দাবি করেছিলেন, মূর্তি তৈরির জন্য তিনি কোনও টাকা নেননি। কিন্তু পরে জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের অডিট রিপোর্টে জানানো হয়, মূর্তির পিছনে ৫১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিতর্ক বাড়তেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, ওই টাকা নাকি মূর্তির বেদি তৈরির জন্য।
নতুন অভিযোগ সামনে আসতেই ফের শোরগোল। সুদীপ্ত বেতালের অভিযোগ, “উনি বলছেন অভয়ার ঘটনার পর নাকি ঘুমোতে পারেননি, সারা রাত জেগে মূর্তি বানিয়েছেন। সবটাই মিথ্যে। ওটা আমার আঁকা একটি স্কেচ টুকে বানানো। অথচ কোথাও আমার নাম বা স্বীকৃতি নেই।”
সুদীপ্ত আরও দাবি করেন, ২০১৮-১৯ সালে অসিত সাঁইয়ের সঙ্গে তিনি যৌথভাবে কাজ করতেন। সেই সময় ওই ছবিটি অসিতকে দেখানোও হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য।
অভিযোগের জবাবে শনিবার মুখ খুললেও কথায় অসঙ্গতি ধরা পড়েছে অসিত সাঁইয়ের। নকলের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, মূর্তির উৎস নিয়ে একেকবার একেক রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। কখনও বলেছেন, ২০১৯ সালে তিনিই ওই ছবি এঁকেছিলেন, আবার কখনও দাবি করেছেন, এটি তাঁর স্বতন্ত্র সৃষ্টি।
বিতর্ক এখানেই থামেনি। সুদীপ্ত বেতাল আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, অসিত সাঁইয়ের পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক মদত। নিজেকে অরাজনৈতিক বললেও, অসিতের দাদা নাকি এক বামদলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য। সেই কারণেই, সুদীপ্তর অভিযোগ অনুযায়ী, “তেমন বড় মাপের ভাস্কর না হয়েও একের পর এক কাজ ও বরাত পাচ্ছেন তিনি।” নকল, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক যোগ—সব মিলিয়ে আর জি করের ‘অভয়ার’ মূর্তি নিয়ে বিতর্ক এখন নতুন মোড়ে।