ওয়েব ডেস্ক : স্বামীকে খুন করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা। সেই অপরাধে স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ড দিল উত্তরপ্রদেশের (Uttarpradesh) মিরাটের একটি আদালত। শুক্রবার অতিরিক্ত জেলা বিচারক-১২-এর আদালত রাভিতা ও তাঁর প্রতিবেশী অমরদীপকে এই সাজা শোনায়। ঘটনাটিকে ‘বিরলতমের মধ্যে বিরল’ বলে উল্লেখ করেছে আদালত। গত ৭ অক্টোবর দু’জনকে খুন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল আকবরপুর সাদাত গ্রামের বাড়ি থেকে অমিত কাশ্যপ ওরফে মিক্কির দেহ উদ্ধার হয়। দেহের নীচে একটি সাপ আটকে থাকায় প্রথমে পরিবারের সদস্যদের ধারণা হয়েছিল, সাপের কামড়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু গলায় আঘাতের চিহ্ন ও শরীরে আঁচড়ের দাগ দেখে সন্দেহ তৈরি হয়। ময়নাতদন্তে জানা যায়, শ্বাসরোধের কারণে মৃত্যু হয়েছে অমিতের।
আরও খবর : তিরঙ্গা মিছিলের আগে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে দিল্লি পুলিশ
অভিযোগ, রাভিতা ও অমরদীপের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। দু’জনে মিলে অমিতকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। ঘটনাটিকে সাপের কামড়ে মৃত্যু বলে দেখানোর চেষ্টা করে। তদন্তে সাপটির বিষদাঁতের থলি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশি তদন্তে দু’জনের মধ্যে একাধিক ফোনালাপের তথ্যও সামনে আসে। প্রসিকিউশনের দাবি, খুনের পর চার দিনে তাঁদের মধ্যে ৭০ বারেরও বেশি কথা হয়েছিল। মামলায় ৫০০ পাতারও বেশি চার্জশিট জমা পড়ে এবং একাধিক সাক্ষীর বয়ান নেওয়া হয়।
সাজা ঘোষণার সময় প্রসিকিউশন পরিকল্পিত খুন ও প্রমাণ নষ্টের চেষ্টার কথা তুলে ধরে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানায়। নিহতের পরিবারের আইনজীবীরাও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত আদালত দু’জনকেই মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়।
