ওয়েব ডেস্ক : মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগেই নিজের জীবন এবং মৃত্যু নিয়ে কথা বলেছিলেন অভিনেতা নানা পাটেকর (Nana patekar)। গোয়ার দোনা পাওলায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জীবনের অনিশ্চয়তার কথা বলেছিলেন তিনি। তখন কে জানত, চারদিন পরেই সব শেষ হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা।
গত ৪ অক্টোবর গোয়ার দোনা পাওলার একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নানা পাটেকর (Nana patekar)। সম্রাট ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। সাদা কুর্তা এবং সাদা গামছা পরিহিত অভিনেতা সেখানে প্রয়াত গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিকরের কাজের ধরন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেন। সেই অনুষ্ঠানেই জীবনের শেষ পরিণতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নানা পাটেকর জানান, ‘প্রত্যেক মানুষকেই একদিন চলে যেতে হয়। আগামী দিন তিনি থাকবেন কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। তবে তার আগে মানুষ নিজের কাছে এই প্রশ্ন রাখতে পারে—সে যে কাজ করতে চায়, তা করতে পারছে কি না।’
আরও খবর : নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বলিউড, শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির
এর ঠিক চার দিন পরেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। বৃহস্পতিবার ভোরে নিজের গোয়ার বাসভবনে গুরুতর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন নানা পাটেকর। অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা দীর্ঘ ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছিলেন নানা পাটেকর। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় তাঁর যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে ‘সালাম বম্বে’, ‘পরিন্দা’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘অব তক ছাপ্পান’, ‘অপরহণ’ এবং ‘রাজনীতি’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
গম্ভীর ও তীব্র চরিত্রের পাশাপাশি ‘ওয়েলকাম’ ছবির উদয় শেঠির চরিত্রেও দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তিনি। তাঁর সংলাপ বলার নিজস্ব ধরন এবং অভিনয়ের তীব্রতা তাঁকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্বতন্ত্র অভিনেতা করে তুলেছিল। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও হাত পাকিয়েছিলেন নানা পাটেকর। ১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। সিনেমায় অবদানের জন্য ২০১৩ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও।
