নয়াদিল্লি: দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর এলাকায় নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ রুখতে পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সম্ভাব্য অপরাধীদের মনে আইনের ভয় তৈরি করতে হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ।
শুনানিতে আদালত জানায়, শুধু অপরাধ ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নিলে চলবে না। অপরাধের সম্ভাবনা রয়েছে এমন এলাকাগুলিতে আগেভাগেই নজরদারি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের আশপাশে পুলিশি উপস্থিতি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা বা শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা রুখতে দ্রুত পদক্ষেপের উপর জোর দিয়েছে বেঞ্চ।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে দিল্লির বিভিন্ন ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকার কথাও। সেখানে অপরাধপ্রবণতা চিহ্নিত করে নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। যৌন অপরাধে অভিযুক্তদের তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে সন্দেহভাজনদের উপর নজর রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
দক্ষিণ দিল্লির একটি মেয়েদের কলেজের কাছাকাছি পার্কে ঘটে যাওয়া গণধর্ষণের ঘটনাও শুনানিতে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে আগে সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।
যৌন অপরাধ প্রতিরোধে দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ ‘ওয়ার রুম’ তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন বেআইনি খাবারের দোকান ও এমন জায়গাগুলি চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে, যেখানে নিয়মবহির্ভূত ভাবে মদ্যপান বা অপরাধপ্রবণ জমায়েত হতে পারে।
২০১২ সালের নির্ভয়া-কাণ্ডের প্রসঙ্গও শুনানিতে উঠে আসে। আদালত মনে করিয়ে দেয়, অপরাধের আগে অভিযুক্তদের এমন কিছু জায়গায় মদ্যপানের তথ্য সামনে এসেছিল।
তবে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের উপরও জোর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মানুষের যেন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে ভয় না হয় এবং প্রয়োজনে নিরাপত্তা পাওয়ার বিষয়ে আস্থা থাকে, সেটিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে দিল্লির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
