ওয়েব ডেস্ক : দেশের একাংশ যখন টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত, তখন উল্টো ছবি মহারাষ্ট্রে (Maharastra)। রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় গোটা বর্ষার মরসুমেই বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। অমরাবতী, সোলাপুর, লাতুর-সহ অন্তত ছয়টি জেলায় বৃষ্টির (Rain) ঘাটতির পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার মহারাষ্ট্রের ৩৫৮টি তহসিলের মধ্যে ২৬৫টিকে খরাকবলিত ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
বৃষ্টির অভাবে একাধিক এলাকায় চাষাবাদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সমস্যায় পড়েছেন কৃষকেরা। আবহবিদদের একাংশ এই পরিস্থিতির পিছনে এল নিনোর প্রভাবকেও দায়ী করছেন। খরা ঘোষণার ফলে কৃষকেরা ঋণ মকুব-সহ বেশ কিছু সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সরাসরি আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ এখনই জানানো হয়নি। প্রথমে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই কৃষকদের কতটা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা পরে ঘোষণা করবে রাজ্য সরকার।
আরও খবর : নাগাল্যান্ডে ভেজাল মদে ১৯ জনের মৃত্যু! উৎসের সন্ধানে বিশেষ তদন্তকারী দল
কৃষি কমিশনারের রিপোর্ট অনুযায়ী, জুন মাস থেকে বৃষ্টির ঘাটতির কারণে ২৬৫টি তহসিলে খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারি মাপকাঠি অনুযায়ী, বর্ষার মরসুমে কোনও এলাকায় টানা ২১ দিন উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি না হলে সেই এলাকাকে খরাপ্রবণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মহারাষ্ট্রের ওই তহসিলগুলি সেই শর্ত পূরণ করেছে। বিড় ও ধারাশিবে জুলাইয়ের পর আর উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি বলেও জানা গিয়েছে।
ছত্রপতি সম্ভাজিনগর বিভাগেও বৃষ্টির ঘাটতির ছবি স্পষ্ট। ১ জুন থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ৪২৪.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ যেখানে ৬১৩.১ মিলিমিটার। অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ৩০.৮ শতাংশ। খরা ঘোষণার পর এবার মাঠে নেমে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করবেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। কোন এলাকায় কতটা ফসল নষ্ট হয়েছে, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। এরপর কৃষি কমিশনারের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার।
