ওয়েব ডেস্ক : ভোট চুরি নিয়ে ফের সরব কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে দলের সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর দাবি, ভোটের অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তার প্রভাব পড়ে দেশের আইন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপরেও। সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারকে দেশবিরোধী কাজের জন্য দায়ী করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন রাহুল।
বুধবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্যের অভিযোগ সামনে আসে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে বিভিন্ন বিষয়ে অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি উপেক্ষা করে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, নাম বাদ দেওয়া এবং বাদ পড়া নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর লিখিত আপত্তির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাহুল গান্ধী সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ভোট চুরি থেকে আইন চুরির জন্ম হয়। তাঁর বক্তব্য, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত আইনপ্রণেতারা যদি চুরি হওয়া ভোটের ভিত্তিতে সংসদে আসেন, তাহলে তাঁদের তৈরি আইন এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে বলে তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত বলেও দাবি করেন।
আরও খবর : ২৮-৩০ শে সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘট
কংগ্রেস নেতা আরও অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) নিয়োগের সময়ও তিনি আপত্তি জানিয়েছিলেন। গণতন্ত্রের উপর এমন আক্রমণ আগে দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করে ভোটারদের অধিকার রক্ষায় দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয় কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। পাশাপাশি জেন-জিদের দল ককরোচ জনতা পার্টিও একই দাবিতে সাংবাদিক বৈঠক করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য নিয়ে তৈরি বিতর্কের জবাব দিয়েছে কমিশন। তাদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাজ করার সময় সদস্যদের মধ্যে ভিন্ন মত থাকা অস্বাভাবিক নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়। কমিশনের তিন সদস্য এবং অন্যান্য আধিকারিকরা স্বাধীনভাবে মতামত জানাতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঐক্যবদ্ধভাবেই নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে কংগ্রেসের অভিযোগের পাল্টা আক্রমণ করেছে বিজেপি। সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া সন্দেহের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন ব্যবস্থায় কারচুপি রয়েছে—এমন ধারণা দূর করা প্রয়োজন। কংগ্রেস এবং তার শরিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগও তোলেন তিনি।
