ওয়েব ডেস্ক: কলকাতা শহরের বিভিন্ন রাস্তার নামের সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি, বাংলার ইতিহাস এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি জুড়ে দিতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। রাস্তার নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি বিশেষ কমিটিও তৈরি করা হয়েছে। সেই কমিটিতে রয়েছেন কার্তিক মহারাজ-সহ মোট ছয়জন সদস্য। কমিটির বৈঠকে আলোচনার পরেই রাস্তার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনও নাম বদলানোর আগে বিধানসভায় তা পেশ করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও জানিয়েছেন কার্তিক মহারাজ।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কার্তিক মহারাজ জানান, প্রথম পর্যায়ে কলকাতার রাস্তার নাম নিয়ে আলোচনা হবে। পরবর্তীতে এই উদ্যোগ গোটা পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্ব, বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত বিশিষ্ট মানুষ, ইতিহাসবিদ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নামে রাস্তার নামকরণের প্রস্তাবগুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
ইতিমধ্যেই কমিটির কাছে প্রায় ১০০টি নামের প্রস্তাব এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ক্ষুদিরাম বসু, উল্লাসকর দত্তের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নামেও রাস্তার নামকরণের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ আধিকারিক বিনোদ মেহতার নামেও রাস্তার নামকরণের প্রস্তাব এসেছে। সত্যজিৎ রায়ের নামেও রাস্তার নামকরণের প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান কার্তিক মহারাজ।
আরও পড়ুন: এনসিপিআই ইস্যুতে নজর, দলবদলকারী ২০ সাংসদকে ঘিরে স্পিকারের তৎপরতা
তবে কোনও প্রস্তাবই এখনই চূড়ান্ত নয় বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। প্রতিটি নাম নিয়ে কমিটির সদস্যরা আলোচনা করবেন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, প্রেক্ষাপট এবং আইনি দিক খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর বক্তব্য, অতীতে অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার সেই ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে সমস্ত বিষয় আলোচনা ও আইন মেনে এগোনো হবে।
এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। পুরসভায় প্রতিদিন একজন কর্মী থাকবেন, যিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আসা আবেদন ও প্রস্তাবগুলি গ্রহণ করবেন এবং সেগুলি কমিটির কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। পরবর্তীতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটির বৈঠকে সেই প্রস্তাবগুলি নিয়ে আলোচনা হবে।
কার্তিক মহারাজ জানান, কমিটির সদস্যরা সপ্তাহে একদিন পুরসভায় বসবেন। সেখানে সাধারণ মানুষের আবেদন এবং বিভিন্ন মহল থেকে আসা প্রস্তাবগুলি পর্যালোচনা করা হবে। আলোচনার পর কোনও নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে বিষয়টি বিধানসভায় পেশ করা হবে। বিধানসভায় অনুমোদনের পরেই সংশ্লিষ্ট রাস্তার নাম পরিবর্তন করা হবে।
অন্যদিকে, আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী হবেন কি না, সেই প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয় কার্তিক মহারাজকে। জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি সংসদে রয়েছেন। তবে তাঁদের সংগঠন থেকে নির্বাচনে লড়তে হলে আগে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হয়। বর্তমানে সেই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই জানান তিনি।
ফলে আপাতত রাস্তার নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত কমিটির কাজেই গুরুত্ব দিচ্ছেন কার্তিক মহারাজ। প্রায় ১০০টি প্রস্তাব সামনে আসায় আগামী দিনে কমিটির আলোচনায় কোন কোন নাম গুরুত্ব পায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
