এনসিপিআই ইস্যুতে নজর, দলবদলকারী ২০ সাংসদকে ঘিরে স্পিকারের তৎপরতা

Must Read

ওয়েব ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদের এনসিপিআই-তে যোগদানকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। একদিকে লোকসভা স্পিকারের নোটিস, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে দলত্যাগ-বিরোধী আইন সংক্রান্ত মামলা-দুই ক্ষেত্রেই এখন নজরের কেন্দ্রে ওই ২০ জন  সাংসদ। তাঁদের দলবদলের সিদ্ধান্ত কী ভাবে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাঁদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনে তাঁদের লিখিত জবাবই গোটা বিতর্কের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তৃণমূলের তরফে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে সাংসদপদ খারিজের দাবি জানিয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার দফতর থেকে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যেক সাংসদকে তাঁদের অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে দলবদলের সিদ্ধান্ত তাঁরা নিজেরা স্বাধীন ভাবে নিয়েছেন কি না, কোনও চাপ বা প্রভাব ছিল কি না, সেই বিষয়টি তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট হতে পারে।

প্রায় ২০ জন সাংসদ একসঙ্গে তৃণমূলের সংসদীয় অবস্থান থেকে বেরিয়ে এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই সাংসদরা অবশ্য তাঁদের সিদ্ধান্তের পক্ষে রাজনৈতিক যুক্তি দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই নতুন সংসদীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ফলে স্পিকারের সামনে এখন শুধু দলবদলের ঘটনা নয়, তার সাংবিধানিক চরিত্রও বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: রেজিনগর পাখির চোখ তৃণমূলের! উপনির্বাচনের প্রচারে মমতা-অভিষেক

লোকসভা সূত্রে খবর, সাংসদদের পৃথক বক্তব্য পাওয়ার পরই পরবর্তী সংসদীয় পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তাঁদের প্রত্যেকের বক্তব্যে দলবদলের কারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং নতুন রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর। কারণ দলত্যাগ-বিরোধী আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এরই মধ্যে বিষয়টি পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে দলত্যাগের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। আগস্টে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে ঘিরে বিষয়টি সামনে আসে। আদালত স্পিকার ও লোকসভা সচিবালয়ের বক্তব্যও জানতে চেয়েছে।

ফলে এখন বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে সংবিধানের দশম তফসিল তথা দলত্যাগ-বিরোধী আইন। কোনও নির্বাচিত সাংসদ দল পরিবর্তন করলে কোন পরিস্থিতিতে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হতে পারে, আবার সাংসদদের একটি গোষ্ঠীর দলবদলকে কী ভাবে দেখা হবে, এই প্রশ্নগুলির পাশাপাশি স্পিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়সীমা নিয়েও আইনি আলোচনা চলছে।

এই মামলার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ২০ জন সাংসদের দলবদলকে ‘মার্জার’ বা একীভূত হওয়ার সাংবিধানিক দাবির সঙ্গে কী ভাবে দেখা হবে। সংখ্যার নিরিখে ওই সাংসদদের অবস্থান নিয়ে সংসদীয় মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। জুলাইয়ে তাঁদের আলাদা আসন দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে, যদিও তাঁদের এনসিপিআই-সংক্রান্ত স্বীকৃতির বিষয়টি তখনও স্পিকারের বিবেচনাধীন ছিল।

কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যে দলের প্রতীকে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, সেই দল থেকে বেরিয়ে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে গেলে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় তার সাংবিধানিক পরিণতি হওয়া উচিত। অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান হল, তাঁরা তাঁদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নতুন সংসদীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই এখন আইনি ও সাংসদীয় প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে স্পিকারের নোটিসের জবাব। প্রত্যেক সাংসদ কী ব্যাখ্যা দেন, তাঁরা দলবদলকে কী ভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং তাঁদের বক্তব্যে কোনও চাপ, প্রভাব বা অন্য কোনও পরিস্থিতির উল্লেখ থাকে কি না, তার উপর পরবর্তী প্রক্রিয়ার অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলাও গুরুত্বপূর্ণ। আদালত স্পিকারের সাংবিধানিক ভূমিকা, দলত্যাগ-বিরোধী আইনের প্রয়োগ এবং সিদ্ধান্ত নিতে কতটা সময় নেওয়া যেতে পারে, এই বৃহত্তর প্রশ্নগুলির দিকে নজর দিতে পারে। আগস্টের শুনানিতে আদালতে মূলত দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তাই আলোচনায় আসে।

ফলে এনসিপিআই ইস্যু এখন আর শুধু তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের বিষয় নয়। একদিকে ২০ জন সাংসদের পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান, অন্যদিকে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের সাংবিধানিক প্রয়োগ,দুই প্রশ্নই একই সঙ্গে সংসদ ও আদালতের নজরে। স্পিকারের নোটিসের জবাব এবং তার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে যেমন রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে, তেমনই সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানিও এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ ঠিক করবে, নজর সেদিকেই।

Latest News

ধোনির দলের হেড কোচ জাহির, ঘোষণা চেন্নাই সুপার কিংসের

ওয়েব ডেস্ক: দীর্ঘদিন পর চেন্নাই সুপার কিংসের হেড কোচ পদে বদল। সিএসকে-র ডাগ আউটে বরাবর বসতে দেখা গিয়েছে প্রাক্তন...

More Articles Like This