মালদা: গঙ্গার জলস্তর বাড়তেই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মালদার (Malda News) একাধিক এলাকায়। বৈষ্ণবনগর ও ভুতনি থানা এলাকায় জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে দুই নাবালক পড়ুয়া এবং এক কৃষকের। চলতি বছরে মালদায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার। কয়েক দিন আগেই ভুতনিতে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল দ্বিজেন মণ্ডল নামে এক কৃষকের।
শুক্রবার সকালে ভুতনির উত্তর চণ্ডীপুর এলাকার বাসিন্দা আনিকুল ইসলাম (৩০) ডিঙি নৌকা নিয়ে পাট আনতে গিয়েছিলেন। খুশবুটোলা এলাকায় প্লাবিত জমিতে ডুবে থাকা পাট উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন তিনি। মাঝপথে আচমকা নৌকা উল্টে যায়। বন্যার জলে তলিয়ে মৃত্যু হয় আনিকুলের।
অন্যদিকে, কালিয়াচক ৩ ব্লকের বৈষ্ণবনগর থানার শোভাপুর-পারদেওনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাবাতুল্লা এলাকায় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় প্লাবিত এলাকায় জলে নেমেছিল দুই নাবালক রাইহান রহমান (১১) এবং ইয়াকুব শেখ (১২)। স্থানীয় একটি হাইস্কুলের পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া ছিল তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খেলতে খেলতেই আচমকা গভীর জলে তলিয়ে যায় দু’জন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও মাঝিরা তল্লাশি শুরু করেন। পরে প্রশাসনের উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতায় রাতেই দুই পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গঙ্গার জলে তাঁদের গ্রাম প্লাবিত। অনেকে বাড়ির ছাদে, কেউ আবার বাঁধের উপর পলিথিন টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, বৈষ্ণবনগরের পারলালপুর, শোভাপুর, পারদেওনাপুর-সহ একাধিক এলাকা প্লাবিত। প্রায় ৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। ১০টির বেশি ত্রাণশিবির চালু হয়েছে।
এদিকেভুতনির পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। হিরানন্দপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুরের প্রায় ৬০টি এলাকা জলমগ্ন। লক্ষাধিক মানুষ বন্যার কবলে। উদ্ধারকাজে অন্তত ১০টি নৌকা ব্যবহার করছে ভুতনি থানার পুলিশ। শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নৌকায় করে রোগীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
