শ্রীরামপুর: শ্রীরামপুরের (Srirampur) মাহেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভা ঘিরে তৈরি আইনি জট কাটল না। সভার অনুমতি সংক্রান্ত মামলাটি ফের সিঙ্গল বেঞ্চে পাঠিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। দ্রুত মামলাটির নিষ্পত্তির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার মাহেশে কালীঘাট তৃণমূলের মিছিল ও সভা করার কর্মসূচি ছিল। সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিধানসভা নির্বাচনের পর ওই জেলায় এটি তাঁর প্রথম সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সভার অনুমতি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ মিছিলের অনুমতি না দিলেও মাহেশের স্নানপিঁড়ির মাঠে প্রায় দু’হাজার মানুষ নিয়ে সভা করার অনুমতি দিয়েছিল। তবে সভায় ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং শব্দবিধি নিয়ে একাধিক শর্তও দেওয়া হয়েছিল।
এই নির্দেশের বিরোধিতা করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। পাশাপাশি মাহেশের জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষও মাঠে রাজনৈতিক সভা করার বিষয়ে আপত্তি জানায়। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, সভা নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মাঠটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় সম্পত্তি এবং সেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। তাই মন্দির কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রশাসন কীভাবে সভার ব্যবস্থা করতে পারে, সেই প্রশ্ন তোলে রাজ্য।
এর পর ডিভিশন বেঞ্চের তরফে একক বেঞ্চের দেওয়া সভার অনুমতি বাতিল করা হয়। শুক্রবার ফের মামলাটি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ওঠে। শুনানির পর আদালত জানায়, মামলাটি সিঙ্গল বেঞ্চেই ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মাঠ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও আবেদনও একক বেঞ্চকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
এদিকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, মন্দিরকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ভাবে সভা আটকানোর চেষ্টা হচ্ছে এবং এর পিছনে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আদালতের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
ফলে শুক্রবার মাহেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা আদৌ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আপাতত আদালতের পরবর্তী নির্দেশের উপরই নির্ভর করছে।
