কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কালীঘাটে অভিষেকের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এরপর তাঁকে ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা জানা গিয়েছে।
শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট খারিজ করেছিল। পরে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তাঁর রক্ষাকবচ তুলে নেয়। ফলে তাঁকে গ্রেফতারে আর আইনি বাধা থাকেনি।
রাজ্যের তরফে সুমিতের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। আদালতে রাজ্য জানিয়েছিল, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেনের হদিস মিলেছে। জুন মাসে একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা জমা পড়ার কথাও আদালতে জানানো হয়। সব মিলিয়ে তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ কোটি টাকার লেনদেনের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদের রেকর্ডও আদালতে পেশ করা হয়। উভয় পক্ষের নথি খতিয়ে দেখে শীর্ষ আদালত জানায়, তদন্তে সহযোগিতার জন্য তাঁকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তিনি সেই তদন্তে যথাযথ সহযোগিতা করেননি।
এর পরেই কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে যায় সিআইডি। তদন্তকারীদের ঢোকা নিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কিছু সময়ের জন্য বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে বাড়ির ভিতর থেকে সুমিতকে বের করে গ্রেফতার করা হয়।
শালবনি থানায় দায়ের হওয়া মামলায় সরকারি জমির চরিত্র বদল, ভুয়ো নথি তৈরি এবং সেই জমি বেশি দামে বিক্রির মতো অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় আগে গ্রেফতার হওয়া এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করে সুমিতের নাম উঠে আসে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সুমিতকে মেদিনীপুর আদালতে হাজির করানো হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে তদন্তকারী সংস্থা।
