ওয়েব ডেস্ক: ডায়াবেটিস (Type 2 Diabetes) ধরা পড়েছে? শুধু মিষ্টি বা চিনি খাওয়া কমালেই দায়িত্ব শেষ নয়। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা ছাড়াও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এমনই বার্তা নতুন আন্তর্জাতিক নির্দেশিকায়। টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ধূমপান ত্যাগকে সাধারণ স্বাস্থ্য-পরামর্শ নয়, বরং ‘ক্লিনিক্যাল ইন্টারভেনশন’ হিসাবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ক্যাটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স ফর দ্য অ্যাক্সিলারেশন অফ হার্ম রিডাকশন’-এর নেতৃত্বে ‘DiaSmokeFree Working Group’ এই আন্তর্জাতিক ঐকমত্য নির্দেশিকা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ডায়াবেটিসের সঙ্গে ধূমপানের অভ্যাস থাকলে হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্ক সংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। অকালমৃত্যুর আশঙ্কাও উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
নির্দেশিকার অন্যতম সহ-লেখক এবং ফোর্টিস সি-ডকের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ডক্টর অনুপ মিশ্র জানিয়েছেন, ভারতে ধোঁয়াযুক্ত এবং ধোঁয়াহীন—দুই ধরনের তামাক ব্যবহারের প্রবণতাই বেশি। ২০১৬-১৭ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে অনুযায়ী, দেশের ২৮.৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তামাক সেবন করেন।
তাহলে কী ভাবে ছাড়বেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ‘ধূমপান ছেড়ে দিন’ বললেই হবে না। রোগীর মানসিক প্রস্তুতি বুঝে কাউন্সেলিং, ওষুধ এবং আচরণগত থেরাপি মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রথম সারির ওষুধ হিসেবে ভারেনিক্লিনের কথা বলা হয়েছে। সেটি না পাওয়া গেলে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা বুপ্রোপিয়ন বিকল্প হতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ধূমপান বন্ধ করার পর শরীরে বিভিন্ন ওষুধের মেটাবলিজম ও কার্যকারিতায় পরিবর্তন হতে পারে। তাই চিকিৎসকদের অন্যান্য ডায়াবেটিসের ওষুধের মাত্রাও পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
ধূমপান ছাড়ার পরে সাময়িক ওজন বৃদ্ধি বা রক্তে শর্করার ওঠানামা হতে পারে। তাই প্রথম দুই এবং চার সপ্তাহে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও ফলো-আপের উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।
