ওয়েব ডেস্ক: আমেরিকার (America) কাছ থেকে জ্যাভেলিন ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করেছে ভারত (India)! শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ ভারত ও আমেরিকার প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির মধ্যে যৌথ উৎপাদনের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
আমেরিকার দূতাবাস সূত্রে খবর, মার্কিন বিদেশি সামরিক বিক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জ্যাভেলিন (Javelin Anti Tank Missile) ব্যবস্থা কেনার জন্য ভারতীয় সেনা ইতিমধ্যেই একটি প্রস্তাব ও গ্রহণপত্রে স্বাক্ষর করেছে। তবে এই চুক্তির মোট আর্থিক মূল্য এবং কতগুলি ক্ষেপণাস্ত্র বা ব্যবস্থা কেনা হবে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
আরও খবর : মোহন ভাগবতের নিউ ইয়র্ক সফরের মাঝেই আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট ঘিরে বিতর্ক
জ্যাভেলিন (Javelin Anti Tank Missile) হল কাঁধে বহনযোগ্য ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এটি মূলত ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া যান ধ্বংসের জন্য তৈরি হলেও বাঙ্কার, সুরক্ষিত অবস্থান, ভবন-সহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যায়। ব্যবস্থাটিতে একটি একবার ব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণ নল এবং একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ইউনিট থাকে। জ্যাভেলিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তি। লক্ষ্যবস্তুতে নিশানা স্থির করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর সেটিকে আর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় না। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে পারেন সেনা সদস্যরা। সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রায় ৬৫ মিটার থেকে সর্বোচ্চ ৪ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এই ব্যবস্থা।
২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে প্রথম বড় পরিসরে জ্যাভেলিনের ব্যবহার দেখা যায়। পরে ইরাক ও আফগানিস্তানে পাঁচ হাজারেরও বেশি অভিযানে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে নির্মাতা সংস্থাগুলি। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর রুশ সাঁজোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের কারণে জ্যাভেলিন ফের আন্তর্জাতিক নজরে আসে। ফলে ভারতের সম্ভাব্য এই ক্রয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
