পৃথিবী (Earth) সৃষ্টির সঠিক রহস্য কী? এ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। পৃথিবী নিয়ে, পৃথিবীর বয়স নিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে নানা রকম জল্পনা-কল্পনা। পৃথিবীর বয়স কত? কীভাবে এ পৃথিবীর সৃষ্টি হলো? কত শত বছর আগে এর উদ্ভব? পৃথিবী ধ্বংসই বা কবে হবে? ইত্যাদি। প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুসন্ধানে বিজ্ঞানের সবচেয়ে রহস্যময় ও অবাক করা নানান উত্তর পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের এই পৃথিবীতে জল কোথা থেকে এসেছে বলুন তো? আমরা সকলেই জানি পৃথীবীতে তিনভাগ জল আর একভাগ স্থল। পৃথিবী সৃষ্টির তত্ত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে যেমন মতানৈক্য আছে, তেমনই ‘জল তুমি কোথা থেকে এসেছো, আর কীভাবে এসেছো’, এই প্রশ্নের উত্তরেও রয়েছে অসাম্য। বছরের পর বছর ধরে বিজ্ঞানীরা এই নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় জলের উৎস সম্পর্কে দুটো দিক উঠে এসেছে।
বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব অনুযায়ী, গ্রহাণু থেকে পৃথিবীতে জল এসেছে, আর নাহলে পৃথিবীই হয়তো তার প্রয়োজনীয় জলের সৃষ্টি করেছে। পৃথিবীতে জলের উৎস সম্পর্কিত একটি নতুন দিক তুলে ধরেছেন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষকরা। তাঁদের দাবি, পৃথিবী প্রাথমিক ভাবে শুষ্ক এবং পাথুরে পদার্থ থেকে তৈরি হয়েছিল। তাই যদি হয়, অর্থাৎ শুষ্কই যদি হয়, তাহলে তাতে জল নিশ্চয়ই ছিল না প্রাথমিক পর্যায়ে। ঠিক তাই। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আমাদের গ্রহে জল পরে এসেছে।
পৃথিবীর যে ৪.৫ বিলিয়ন বছরের পুরনো এবং কীভাবে পৃথিবী গঠিত হয়েছিল বিজ্ঞানীরা এখনও তা বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন এই প্রক্রিয়াটি অধ্যয়ন করার সবথেকে ভাল উপায় হল, পৃথিবীর অভ্যন্তরে গরম ম্যাগমার অনুসন্ধান করা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ম্যাগমা পৃথিবীর বিভিন্ন গভীরতায় উৎপন্ন হয়। যে আবরণ থেকে ম্যাগমা লাভা রূপে নির্গত হয়, সেই উপরের আবরণটিই শুরু হয় ১৫ কিলোমিটার গভীরতায় এবং তার প্রায় ৬৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এদিকে নিচের ম্যান্টেলটি ৬৮০ কিমি থেকে ২৯০০ কিমি পর্যন্ত মূল ম্যান্টেল পর্যন্ত বিস্তৃত।
আরও পড়ুন:Varun Dhawan | Atlee Kumar | অ্যাটলির প্রযোজনার অ্যাকশন ফিল্মে বরুণ ধাওয়ান
বিভিন্ন গভীরতায় গিয়ে ম্যাগমা অধ্যয়ন করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর স্তর এবং গঠন ও প্রত্যেকটি স্তরে উপস্থিত রাসায়নিকগুলি সম্পর্কে জানতে পারেন। এই গবেষণার পরই তাঁরা জানিয়েছেন, পৃথিবী একবারে গঠিত হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বিভিন্ন পদার্থের মিশ্রণে বিকশিত হয়েছে। এর অর্থ হল, পৃথিবীর গঠন সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে নিচের ম্যান্টেল এবং উপরের ম্যান্টেল। সম্প্রতি পৃথিবীর গভীরতায় জল সহ অন্যান্য উদ্বায়ী রাসায়নিকের যথেষ্ট অভাব শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণার নেতৃত্ব যিনি ছিলেন সেই ডঃ ফ্রাঁসোয়া টিসোট বলছেন, “মহাকাশ অনুসন্ধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সম্ভবত এর মাধ্যমেই পৃথিবীর জল সহ সমস্ত জীবনের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।”