কলকাতা: রাজ্যসভার জন্য সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy), সুস্মিতা দেব (Sushmita Deb) ও প্রকাশ চিক বরাইক-সহ একাধিক প্রাক্তন তৃণমূল (TMC) নেতাকে বিজেপির (BJP) প্রার্থী করা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, অন্য দল থেকে আসা নেতাদের কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি? সেই বিতর্কের মাঝেই দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
রবিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ বলেন, বিজেপি এমন ব্যক্তিদেরই সুযোগ দেয়, যাঁরা দলের আদর্শে বিশ্বাস রেখে কাজ করতে চান এবং সাংগঠনিকভাবে অবদান রাখতে সক্ষম। তাঁর দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে বহু নেতা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, কারণ তাঁরা বর্তমান নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখছেন এবং দেশের উন্নয়নের রাজনীতিতে সামিল হতে চাইছেন।
দিলীপের বক্তব্য, বিজেপি কোনও ব্যক্তির অতীত রাজনৈতিক পরিচয়কে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখে না। বরং দলের নীতি ও আদর্শ মেনে কাজ করার ইচ্ছাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই কারণেই অন্য দল থেকে আসা অভিজ্ঞ নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বা সাংসদীয় দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বিতর্কে সরব দিলীপ, বাংলাদেশে ‘অবৈধ সরকার’ চলছে বলে দাবি রাজ্যের মন্ত্রীর
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যসভায় অভিজ্ঞ মুখ পাঠিয়ে সংসদে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে বিজেপি। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজ্যে সাংগঠনিক বিস্তার এবং রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি একদিকে তৃণমূলের সমালোচনা করলেও অন্যদিকে সেই দলের প্রাক্তন নেতাদেরই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাচ্ছে। যদিও এই সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের দাবি, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে দলবদল অস্বাভাবিক নয় এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে রাজ্যসভার মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আপাতত আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
