নয়াদিল্লি: ‘এক দেশ, এক ভোট’ নীতি কার্যকর করার লক্ষ্যে কেন্দ্রের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগোল বলে ইঙ্গিত মিলল (One Nation One Election)। যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) চেয়ারম্যান পি পি চৌধুরী জানিয়েছেন, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৯ সাল থেকেই দেশজুড়ে এই ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করা হবে। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিক সমাজের অধিকাংশ প্রতিনিধিই দ্রুত ‘এক দেশ, এক ভোট’ চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন।
বর্তমানে ‘এক দেশ, এক ভোট’ সংক্রান্ত বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটির বিবেচনাধীন। বিভিন্ন সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার ও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। সেই রিপোর্ট সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই পেশ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান।
আরও খবর : ভিয়েতনামে মর্মান্তিক নৌকাডুবি, প্রাণ হারালেন অন্তত ১৫ ভারতীয় পর্যটক!
জেপিসি সূত্রে ইঙ্গিত, এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রথম ধাপে লোকসভা ও সমস্ত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ১০০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত ও পুরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করা হতে পারে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ কমানো বা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ-সহ যেসব রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ২০৩০ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে হওয়ার কথা, সেখানে স্বল্পমেয়াদি বিধানসভা গঠনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন পি পি চৌধুরী। সেই হিসেবে ২০৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচিত বিধানসভার মেয়াদ পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছর হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে, যাতে পরবর্তী নির্বাচন লোকসভার সঙ্গে একযোগে করা যায়।
তবে এই পরিকল্পনা এখনও প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। আইন কার্যকর করতে সংসদের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনও দরকার হবে। ফলে ‘এক দেশ, এক ভোট’ কবে এবং কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করবে আইন প্রণয়ন ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের উপর।
