কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandri,a Bhattacharya)। পাশাপাশি দলের অ্যাকাউন্ট পরিচালনার দায়িত্ব এবং নির্বাচন কমিশনে দলের প্রতিনিধির ভূমিকাও ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই পদত্যাগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
মাত্র এক মাস আগে দলের সাংগঠনিক রদবদলের সময় সুব্রত বক্সির পরিবর্তে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় থেকেই তিনি নিয়মিত দলের মেট্রোপলিটন কার্যালয়ে সাংগঠনিক কাজকর্ম দেখছিলেন।
আরও পড়ুন: পোলিও টিকাকরণে পিছিয়ে কলকাতা!
শুক্রবার দলের কার্যালয়ে ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর কয়েক জন নেতার প্রবেশকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমে চন্দ্রিমা দাবি করেন, তাঁকে বলা হয়েছে যে তিনি নাকি দলের কার্যালয় ওই গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিয়েছেন। এই অভিযোগে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা ও আনুগত্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে তিনি মনে করছেন। সেই কারণেই দলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
চন্দ্রিমা বলেন, “আমার বিশ্বাসযোগ্যতা ও আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মনে হচ্ছে আমি অযোগ্য। তাই সব কিছুর দায় নিজের উপর নিয়েই ইস্তফা দিলাম।” ভবিষ্যতে দলীয় পদে ফিরবেন কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সময়ই পরবর্তী পথ ঠিক করবে।”
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জেরেই এই সিদ্ধান্ত। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তাই তাঁর পদত্যাগকে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
