ওয়েব ডেস্ক: হ্যাটট্রিকটা অল্পের জন্য হাতছাড়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ৪১ বছর বয়সেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা ফুটবল বিশ্ব। আর ম্যাচ শেষের পর সেই রোনাল্ডোই ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে, গলার শিরা ফুলিয়ে, তর্জনী বুকে ঠেকিয়ে উচ্চারণ করলেন তিনটি শব্দ— “আই অ্যাম ব্যাক।” সাধারণত মাতৃভাষা পর্তুগিজেই কথা বলতে স্বচ্ছন্দ পর্তুগিজ (Portugal) মহাতারকা। কিন্তু এবার তিনি ইংরেজিতেই বার্তা দিলেন। যেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমালোচকদের উদ্দেশেই তাঁর এই ঘোষণা— রোনাল্ডো এখনও ফুরিয়ে যায়নি।
বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) মঞ্চে রোনাল্ডো মানেই প্রত্যাশা, চাপ এবং সমালোচনার এক অন্তহীন চক্র। ২০২২ সালে লিওনেল মেসি বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই সেই সমালোচনা যেন আরও তীব্র হয়েছে। বয়স, ফর্ম, দলের উপর প্রভাব— সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু রোনাল্ডো কখনও প্রকাশ্যে জবাব দেননি। বরং নিজের প্রস্তুতি, পরিশ্রম এবং আত্মত্যাগের মাধ্যমে উত্তর খুঁজেছেন।
আরও পড়ুন: ফুটবলের আবেগে ফুটছে কলকাতা! শহরের অলিগলির ছবি শেয়ার করে কী লিখল ফিফা?
বিজ্ঞান বলছে, ২০৩০ বিশ্বকাপে তাঁর খেলা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু রোনাল্ডো বরাবরই অসম্ভবকে সম্ভব করার নাম। তাই হয়তো তিনি এখনও নিজের মধ্যে বিশ্বাস রাখেন। আর সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেল উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে। টানা দু’টি ম্যাচ ৯০ মিনিট খেললেন তিনি। হ্যাটট্রিকের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যে ক্ষুধা দেখালেন, তা তাঁর অর্ধেক বয়সী অনেক ফুটবলারের মধ্যেও দেখা যায় না।
ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে পয়েন্ট হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল পর্তুগালের। সেই ম্যাচের পর ফের সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন দলের নেতৃত্ব নিয়ে। কিন্তু রোনাল্ডো হাল ছাড়েননি। বরং সতীর্থদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, সবাইকে একসঙ্গে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন। তারই প্রতিফলন দেখা গেল উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে। ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, জোয়াও ফেলিক্স, পেদ্রো নেটোরা বারবার বল বাড়িয়ে দিয়েছেন রোনাল্ডোকে। আবার নিজেও সুযোগ তৈরি করেছেন সতীর্থদের জন্য। নুনো মেন্ডেজকে ফ্রিকিকের সুযোগ করে দিয়ে যেন তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তিনি শুধু গোলমেশিন নন, দলেরও একজন সৈনিক।
ম্যাচের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রোনাল্ডো বলেন, “যাঁরা আমার দিকে আঙুল তুলছিলেন, তাঁদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছি আমি কে এবং কী করতে পারি। গত এক সপ্তাহ আমাদের কাছে খুব কঠিন ছিল। আমরা অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমরা সবাই মিলে কথা বলেছিলাম এবং প্রত্যাবর্তনের লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ঈশ্বর তাঁদের সঙ্গেই থাকেন, যারা কঠোর পরিশ্রম করে এবং হাল ছাড়ে না। আমার দলের উপর বিশ্বাস ছিল। আজ সেটা প্রমাণ হয়েছে।”
দেখুন আরও খবর:
