কলকাতা: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyamaprasad Mukherjee) প্রয়াণ দিবসে রেড রোডে তাঁর মূর্তিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্তব্য করলেন রাজ্যের তিন মন্ত্রী। স্কুলে পশ্চিমবঙ্গ দিবস (Paschimbanga Diwas) বা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে কর্মসূচি, মিড ডে মিল (Mid Day Meal) প্রকল্পে ইসকনের (ISKON) দায়িত্ব, রাজ্যের ফায়ার অডিট এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘সেন্টার অফ এমিনেন্স’ করার পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তাঁরা।
স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, পশ্চিমবঙ্গ দিবস বা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামকে স্কুল পর্যায়ের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, বিষয়টি ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে।
মিড ডে মিল প্রকল্পে ইসকনকে রান্নার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী জানান, এটি আপাতত একটি পাইলট প্রকল্প। তাঁর কথায়, “পুষ্টির জন্য মিড ডে মিলে ডিম অপরিহার্য নয়। ইসকনকে পরীক্ষামূলকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যাঁরা রান্নার কাজ করছেন, তাঁরাই তা চালিয়ে যাবেন। প্রকল্প সফল হলে বৃহত্তর পরিসরে তা চালু করা হতে পারে।”
অন্যদিকে, দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী রাজ্যে ফায়ার অডিটের উপর বিশেষ জোর দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে পর্যাপ্ত ফায়ার অডিট হয়নি। বর্তমানে কলকাতার হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি লখনউয়ের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও উদ্বেগজনক। সেই কারণেই বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। ইভিএম পুড়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দমকলমন্ত্রী জানান, ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে সামনে রেখে রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক মাসব্যাপী কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। তাঁর দাবি, শিক্ষাক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদের অবদান তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘সেন্টার অফ এমিনেন্স’ করার প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন তিনি। মন্ত্রীর বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে এবং এর জন্য প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সাহায্য করবে।
