ওয়েব ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ দিবসের প্রথম সরকারি উদ্যাপনের মঞ্চ থেকে বাংলার ইতিহাস, দেশভাগের প্রেক্ষাপট এবং বাঙালি হিন্দু সমাজের আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন তুলে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। শনিবার হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক রক্তাক্ত ইতিহাস, যার বহু অধ্যায় দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিগত সরকারগুলিরও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বাংলার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায় ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়নি। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও টানেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ (Great Calcutta Killing) এবং নোয়াখালি দাঙ্গার উল্লেখ করে বলেন, সেই সময় বাংলার মানুষ দেশভাগের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তাঁর দাবি, গোটা পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের বাইরে রেখে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল, যা রুখে দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Syama Prasad Mookerjee)। মোদির কথায়, “কলকাতার হিংসায় অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তারপর হয়েছিল নোয়াখালির দাঙ্গা। মাতৃভূমিকে টুকরো হতে দেখেছিল বাংলার মানুষ। সেদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে আজকের পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব থাকত না। তিনি পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচিয়েছিলেন।”
শনিবার দুপুরে কালাইকুন্ডা থেকে হেলিকপ্টারে তারকেশ্বরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চে উঠে বাবা তারকেশ্বর মন্দিরে প্রণাম জানিয়ে ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনির মাধ্যমে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “বাংলার প্রতিটি কোণা থেকে আমি নতুন হাওয়া এবং নতুন উদ্যমের অনুভূতি পাচ্ছি। শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে বাংলা। আজ প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বাংলার পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করছি। দুর্নীতির যে গর্ত তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করতে সময় লাগবে। তবে ডবল ইঞ্জিন সরকার দ্বিগুণ গতিতে উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্যচাষ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি এসেছে। রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেখুন আরও খবর:
