ওয়েব ডেস্ক : রাজ্যে পালা বদলের পর ভেঙেই চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। একদিকে নেতারা দল ছাড়ছেন। অন্যদিকে লোকসভার ২০ জন সাংসদ ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি তাঁরা এনসিপিই (NCPI) বা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া পার্টিতে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে কিছু দিন আগেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে (Om Birla) চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এবার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তিনি।
শুক্রবার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র। তার পরেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “ভারতের সংবিধানে লেখা রয়েছে, কেউ যদি নিজে থেকেই দলের সদস্যপদ ছাড়ে তাহলে সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যাবে। কেউ যদি অন্য দলে যোগ দান করে সেক্ষেত্রেও সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যাবে। সেই হিসাবে তৃণমূলের প্রতীকে জিতে আসা লোকসভার সদস্য পদ বাতিল হওয়ারই কথা। ”
আরও খবর : ‘যোগাসন’ নাকি ‘গুটখাসন’! রবি কিষণের ভিডিও দেখে খোঁচা নেটিজেনদের
তিনি আরও বলেন, আজ ২০ জনের সাংসদ পদ খারিজের জন্য ২০টি আলাদা চিঠি দিয়েছি।। যাঁরা যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে এনসিপিআই-এ নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের সাংসদ পদ খারিজের জন্য ছিঠি দিয়েছি। এছাড়া বলেছেন, সংবিধানের ১০ নম্বর সিডিউলের ২ ও ৪ নম্বর ধারায় স্পষ্ট লেখা রয়েছে, কেউ যদি নিজে থেকেই অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যায় বা স্বেচ্ছায় পার্টির সদস্যপদ ছেড়ে দেয়, তাহলে তাঁর সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যাবে। কেউ যদি তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-এ যাই, যেটা তাঁরা দাবি করছে, তাঁরা তাহলে তৃণমূলে সদস্য আর নয়, তাহলে সাংসদ পদ খারিজ হবে।
অভিষেক (Abhishek Banerjee) আরও বলেছেন, ‘যাঁরা আত্মপক্ষ সমর্থনের কথা বলছে, তখন বলছে আমার দুই-তৃতীয়াংশ। তবে যতক্ষন না দলের দুই-তৃতীয়াংশ অন্য দলের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার কথা বলছে না, ততক্ষণ মার্জার হবে না। সবটাই সংবিধানে লেখা রয়েছে। এছাড়া বলেছেন, কে সংবিধানের পক্ষে, কে বিরুদ্ধে? তা ঠিক করবেন স্পিকার।’
‘বিদ্রোহী’রা যে পৃথক ব্লকের কথা বলেছিলেন, তা হয়না বলেই জানিয়েছেন অভিষেক। সুপ্রিম কোর্টের রায় রয়েছে, রাজনৈতিক দলের দুই-তৃতীয়াংশ যখন অন্যদলের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে ঠিক করে, তবেই অন্য অন্যদলের সঙ্গে মার্জার করা যাবে। এই বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে স্পিকার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
দেখুন অন্য খবর :
