33.7 C
Kolkata

অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান, বাজেট ভাষণে রাজ্য সরকারে দরাজ প্রশংসা রাজ্যপালের

Must Read

কলকাতা: বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশন (West Bengal Budget Session)। অধিবেশনের সূচনায় রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁর ভাষণে নবগঠিত বিজেপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। নতুন বিজেপি সরকার অপরাধীচক্র, সিন্ডিকেটরাজ এবং অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পথে হাঁটছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি (Governor R N Ravi)। রাজ্যপালের ভাষণেও সেই ‘ভয় আউট, ভরসা ইনে’র বার্তা।বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা বেজে ৫৫ মিনিটেই বিধানসভায় পৌঁছে যান রাজ্যপাল আর এন রবি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)৷ অম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন৷

অনুপ্রবেশের জন্য সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলির জনবিন্যাস পালটে যাচ্ছে।জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তৈরি হয়েছে বড়সড় চ্যালেঞ্জ! বার এই ইস্যুতে সুর চড়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যেও বারবার উঠে এসেছে অনুপ্রবেশের কথা। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পরেই সীমান্তে কাঁটাতার দিতে পর্যাপ্ত জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। যেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অবৈধভাবে ভারতে থাকা বাংলাদেশিদের আর আদালতে তোলা হবে না। সোজা বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এদিন বাজেটে ভাষণে রাজ্যপালের গলায় শোনা গেল অনুপ্রবেশের কথা। বিধানসভায় রাজ্যপাল জানান, অনুপ্রবেশের কারণে জনবিন্যাস ক্রমশ বদলেছে। যদিও অনুপ্রবেশ রুখতে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার।

এদিন ভাষণে রাজ্যপাল সরকারের দরাজ প্রশংসা করে বলেন, এই সরকার প্রথম ও প্রধান গুরুত্ব দেবে দুর্নীতি রোধে। আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, সবরকমের তোলাবাজি বন্ধ করা। জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে ও নাগরিকদের সুরক্ষার প্রতি এই সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে। অবৈধ বিদেশিদের প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান শোনা যায় রাজ্যপালের বক্তব্যে। তিনি জানান, রাজ্যে অবস্থানকারী অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।বলেন, “অনুপ্রবেশে বদলেছে বাংলার জনবিন্যাস। তা রুখতে রাজ্য সরকার রুখতে বদ্ধপরিকর। অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করার প্রতি আমার সরকার দায়বদ্ধ। সরকারি জমির অবৈধ দখলদারি রোখা হবে।

আরও পড়ুন: বিরোধী দলনেতা পদে বহাল ঋতব্রতই

২২ তারিখ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। আজ অধিবেশনের সূচনা ভাষণে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথাই বলেন রাজ্যপাল।  এদিন দুর্নীতি ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আর এন রবি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রোধে কড়া পদক্ষেপ করবে আমার সরকার। নারী নিরাপত্তা ও শিশু নির্যাতনে রাজ্যের জিরো টলারেন্স নীতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, “রাজ্যে তোলাবাজি, দুষ্কৃতীরাজের অবসান হয়েছে। মানবপাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। তিনি বলেন, কৃষকদের স্বার্থ দেখাই হবে আমার সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ।

রাজ্যপালের বক্ততায় উঠে আসে একাধিক ইস্যু৷ তিনি জানান, জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে জোর দেবে তাঁর সরকার। জানান, নাগরিকদের সুরক্ষা রাজ্য সরকারের প্রথম প্রায়োরিটি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকার কড়া অবস্থান নেবে, সেকথাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন রাজ্যপাল। পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিয়েও সচেতন তাঁর সরকার। তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হবে। সরকারি জমি দখলমুক্ত করার বিষয়েও কাজ করবে নতুন সরকার৷ তিনি বলেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় জোর। সেনসাস জরুরি। কৃষকদের জন্য সুবিধাজনক নীতি নিয়ে আসা হবে। হাইলেভেল টাস্ক ফোর্সের পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সমস্ত শীর্ষ আধিকারিকরা কাজ করছেন। মুখ্যসচিব বাকিদের সাথে নিয়ে সুচারু ভাবে কাজ করবেন। দীর্ঘ দিন মেট্রোর কাজ আটকে থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেট্রো রেল সহ রাজ্যের সমস্ত রেল প্রকল্পের কাজে সমস্ত ধরণের সাহায্য করবে রাজ্য সরকার। আমার সরকার আমার রাজ্যকে শিল্পের শীর্ষ ক্ষেত্রে নিয়ে আসতে চায়। যে সব জমি অব্যবহৃত বা ব্যবহার করা হয়নি। সেগুলোকে পুনরুদ্ধার করে শিল্পের কাজে লাগানো হবে।

আরও পড়ুন: ‘মেট্রোর কাজ আটকে রেখেছিল আগের সরকার’, বাজেট ভাষণে তৃণমূলকে দুর্নীতি নিয়ে নিশানা রাজ্যপাল রবির

তিনি বলেন, উপকূলীয় পরিবহণ, অন্তঃদেশীয় পরিবহণ ও মৎস্য চাষে গুরুত্ব দেওয়া হবে।অশোকনগরে ONGC কে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ছাত্র:শিক্ষক অনুপাতে জোর দেওয়া হবে। লাইব্রেরিকে আধুনিক পরিকাঠামোয় আনা হবে। নিয়োগে TET নিয়মিত হবে। আমার সরকার বন্দেমাতরম’কে বাধ্যতামূলক করেছে স্কুলে। পিএমশ্রী প্রকল্প রাজ্যে চালু করা হবে। মহিলাদের সশক্তিকরণের জন্যে এই সরকার ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনা শুরু করেছে। মহিলাদের বাসে যাতায়াত ফ্রি করা হয়েছে। পুলিশ বাহিনীতে মহিলাদের যোগদানে আরও গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এখানে মেধা থাকা সত্ত্বেও, পড়ুয়াদের চাকরি করতে ভিন রাজ্যে চলে যেতে হয়েছে। যুব সমাজের জন্যে আমরা স্টার্টআপ হাব করব। বেকার যুবক যুবতীদের সাহায্য করা হবে।OBC তালিকা পুনরায় যাচাই করা হবে।

উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে জোর দিয়ে রাজ্যপাল বলেন, উত্তরবঙ্গে IIT গড়া হবে। উত্তরবঙ্গে AIIMS গড়া হবে, দীর্ঘদিনের দাবি মেনে পদক্ষেপ করা হবে। রাজ্য সরকার সেই কাজ করবে।দার্জিলিংয়ে গোর্খাল্যান্ড ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি আছে। সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যার সমাধান করা হবে।খোলা হবে বন্ধ চা বাগান। সব মিলিয়ে রাজ্যপাল বুঝিয়ে দিলেন, বাংলার মানুষের আর ভয় নেই। ভরসার হাত রয়েছে তাঁদের মাথার উপর। বাংলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প থেকে বঞ্চিত ছিল। নয়া রাজ্য সরকার সমস্ত প্রকল্প রাজ্যে চালু করার ব্যাপারে সব প্রচেষ্টা চালাবে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা স্বচ্ছতা করা হবে। বিধবা ও সিনিয়র সিটিজেনদের গুরুত্ব বা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।আমার সরকার সব মানুষের সমর্থন পেয়েছে। তাই সব মানুষের জন্যে এই সরকার কাজ করবে।

Latest News

‘ডিম থেরাপি’ প্রসঙ্গে এটা কী বললেন শান্তনু ঠাকুর!

ওয়েব ডেস্ক : বৃহস্পতিবার বনগাঁর (Bongaon) নীলদর্পণ ভবনে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শন করেলেন উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ লোকসভার সাংসদ...

More Articles Like This