ওয়েব ডেস্ক: ‘আগেরজন পর্যটক হয়ে আসতেন, আমি যা বলব, তা-ই করব’, পাহাড়ে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফল বোঝালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। পর পর উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মাসখানেক আগে উত্তরবঙ্গে এলেও শিলিগুড়িতেই গিয়েছিলেন। পরে আবার উত্তরবঙ্গ সফরে গেলেও পাহাড়ে যাননি তিনি। এ বার এক দিনের সফরে কার্শিয়াং গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার সভা থেকে পাহাড়বাসীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি। পাহাড়ে সব দলের তরফে সংবর্ধনা পেলাম। কার্শিয়াঙের (Kurseong) সভা থেকে উত্তরবঙ্গের সমস্ত দাবি পূরণ করার আশ্বাস দিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ শুভেন্দুর কথায়, ‘‘পাহাড়বাসীর প্রত্যাশা পূরণ করবে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে পাহাড়ে। পাহাড়ে তিনি ঘুরতে আসবেন না। উন্নয়ন এবং কাজের জন্য আসবেন।’’
বেশ কয়েকটি নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ থেকে ধারাবাহিক ভাবে ভাল ফল করে এসেছে বিজেপি। মঙ্গলবার কার্শিয়াঙের মন্টেভিট গ্রাউন্ড থেকে সেই কথা স্মরণ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘২০০৯ সাল থেকে বার বার পাহাড়ে পদ্ম ফুটেছে।পাহাড়বাসী সব সময়েই বিজেপির উপর ভরসা রেখেছে। সেই ভরসা, প্রত্যাশা পূরণের সময় এসেছে।’’শুভেন্দুর কথায়, ‘‘পাহাড়ে উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করবে রাজ্য সরকার। নির্বাচনী ইস্তাহারে যা যা ছিল, তা পূরণ হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর জানান, ‘‘এবার পাহাড়ে পরিবর্তনের জন্য যিনি কাজ করেছেন, তিনি বিমল গুরুং এবং রোশন গিরি।’’ দেশের নিরাপত্তায় স্থানীয় মানুষের বলিদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, ‘‘দেশের সুরক্ষার জন্যে পাহাড়ের সেনা জওয়ানেরক জীবন বলিদান দিয়েছেন। ওনাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করি।
আরও পড়ুন: চা বাগান নিয়ে বিরাট মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর! পাহাড়ে গিয়ে কী কী জানালেন শুভেন্দু অধিকারী?
কার্শিয়ঙের জনসভা থেকে স্পষ্ট জানান, “পাহাড়ে সব দলের তরফে সংবর্ধনা পেলাম। এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের আসল সুফল পাবেন পাহাড়ের মানুষ। কেন্দ্রের সমস্ত থমকে থাকা প্রকল্প এবার পাহাড়ে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হবে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে কালিম্পঙে একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ করা হবে। এর পাশাপাশি পাহাড়ের শিক্ষা পরিকাঠামোকেও আমূল বদলে ফেলা হবে। রাজ্যের সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এবার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ‘জিআরএমজি’ প্রকল্পের অধীনে বছরে ১২৫ দিনের কাজের বড় সুযোগ মিলবে পাহাড়ে।পাহাড়ের যুবসমাজের সুবিধার্থে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। এছাড়া পাহাড়ে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকিও আগের মতোই বজায় থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত জমানার নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে রাজ্যে একটি ‘নেগেটিভ’ সরকার ছিল। ঠিকমতো নিয়োগ তো হয়ইনি, উল্টে জিটিএ (GTA)-তেও ব্যাপক নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে। এই সরকারের আমলে তেমনটা হবে না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুলিশে বড়সড় নিয়োগ করা হবে।”চা শ্রমিকদের দুরবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী ‘পিএম চা শ্রমিক যোজনা’ চালু করলেও আগের সরকার দুর্নীতির কারণে তা কার্যকর করেনি। এখন বন্ধ থাকা ২৫টি চা বাগানের জন্য ৩৩৪ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শুরু হচ্ছে। টি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে চা বাগানের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।তিনি বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী বলতেন, পাহাড়ে নাকি তাঁর কোনও ভোট নেই, তাই তিনি এখানকার জন্য কাজও করতেন না। স্রেফ পর্যটক হয়ে পাহাড়ে ঘুরে যেতেন। কিন্তু আমি এখানে পর্যটক হিসেবে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। পাহাড়ের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারের সব প্রকল্পকে পাহাড়বাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। যা বলব, তা-ই করব— এটাই আমার অঙ্গীকার।
