ওয়েব ডেস্ক : বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় (Signature forgery case) সাড়ে ৮ ঘণ্টা পর ভবানীভবন থেকে বেরলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। জানা যাচ্ছে, সেখান থেকে সোজা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। এদিন সই জাল কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয় বলেও জানা গিয়েছে।
এই মামলায় এদিন বেলা ১১টা ৪৫ নাগাদ ভবানীভবনে পৌঁছান অভিষেক (Abhishek Banerjee)। এদিন কুণাল ঘোষকেও তলব করা হয়েছিল। এদিন তিনি বিকেল ৩টে ২০ নাগাদ পৌঁছেছিলেন তিনি। সাড়ে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ককে। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, অভিষেকের মুখোমুখি বসিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তে সবরকম সাহায্য করেছেন। তার পরেই সাড়ে ৮ ঘণ্টা পর ভবানীভবন থেকে বেরলেন অভিষেক। বলে রাখা দরকার, এর আগে গত ১১ জুন এই মামলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ম্যারাথন জেরা করেছিলেন তদন্তকারীরা, কিন্তু তাঁর জবাবে সন্তুষ্ট না হওয়ায় আজ রবিবার ফের তাঁকে তলব করা হয়েছিল।
আরও খবর : ভবানী ভবন ছেড়ে বেরোলেন কুণাল ঘোষ
উল্লেখ্য, গোটা ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূলের বিরোধী দলনেতার বাছাই নিয়ে। গত ৯ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) স্পিকারকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, গত ৬ মে-র বৈঠকে তৃণমূলের পরিষদীয় বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সহ বিরোধী দলনেতা হিসেবে অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও চিপ হুইপ হিসেবে ফিরহাদ হাকিমকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরেই বিধানসভার সচিব অভিষেকের কাছে ওই বৈঠকের স্বাক্ষর সম্বলিত রেজোলিউশন বুক চান। তা গত ২০ মে জমা দেন অভিষেক। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, গত ৬ মে-র ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৭০ জন বিধায়ক। আর তাঁদের স্বাক্ষর ওই রেজিলিউশন বুকে রয়েছে।
তবে তৃণমূলের দুই বিধায়ক অভিযোগ করেছিলেন, ৬-মের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা বাছাই সংক্রান্ত কোনও প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। তাঁরা রেজিলিউশন বুকে ১৯-মের বৈঠকে সই করেছিলেন। ফলে ৬-মের স্বাক্ষরের বিষয়টি পুরো ‘জাল’ ছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন অভিযোগকারীরা। এই মামলার তদন্তে নেমে ১৩ জন তৃণমূল বিধায়কের বয়ান রেকর্ড করেছিল সিআইডি (CID)। সেই মামলার তদন্তে অভিষেক ও কুণাল ঘোষকে রবিবার জেরা করে সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল। এদিন কুণাল ঘোষকে সাড়ে তিন ঘণ্টা জেরা করা হয়। আর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে সাড়ে ৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তৃণমূলের দুই নেতাকে এদিন মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয় বলেও খবর।
দেখুন অন্য খবর :
