কলকাতা: তৃণমূল (TMC) বিধায়কদের সই জালিয়াতি বিতর্কে নতুন মোড়। এই মামলায় থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছিল তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, গত ২০ মে তৃণমূলের তরফে ৭০ জন বিধায়কের সই-সহ একটি প্রস্তাবপত্র বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২৭ মে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা বিধানসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই স্পিকারের নির্দেশে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। পরে রাজ্য সরকারের অনুমোদনে তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সিআইডি-র তলবে অনুপস্থিত অভিষেক
শুভেন্দুর দাবি, ইতিমধ্যেই সিআইডি একাধিক তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁদের মধ্যে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, হাওড়া মধ্যের অরূপ রায় এবং মহেশতলার শুভাশিস দাস তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, বিতর্কিত নথিতে থাকা সই তাঁদের নয়। বাহারুল ইসলাম নাকি সিআইডিকে জানিয়েছেন, ওই দিন তিনি কলকাতাতেই ছিলেন না।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় তৃণমূল নেতৃত্বকে আক্রমণ করে বলেন, “নিজেদের দলের বিধায়কদের সই জাল করা হয়েছে। তিন জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই সিআইডির কাছে তা স্বীকার করেছেন। তদন্তে যা তথ্য উঠে আসবে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে এই মামলায় সোমবার ভবানীভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা দেননি। সিআইডিকে চিঠি পাঠিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, সই-বিতর্কের আবহেই সোমবার তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তৃণমূল।
