শান্তিনিকেতন: সোনাঝুরি হাটে (Shantiniketan Sonajhuri Khowai Haat) চলল বুলডোজার, উপড়ে ফেলা হল হোটেল, রিসোর্ট বিজ্ঞাপনী বোর্ড। বন দফতরের জায়গায় যানবাহন ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা৷ এই আবহে জঙ্গল বাঁচাতে পথে নামলেন বন বিভাগের আধিকারিকরা। বনদফতরের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ী থেকে পর্যটক। তবে নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি ঢোকা ও বার হওয়ার ক্ষেত্রে আবেদন ব্যবসায়ীদের। এবার শান্তিনিকেতনের (Shantiniketan) সোনাঝুরিতে চলল বুলডোজার। জঙ্গল বাঁচাতে কড়া পদক্ষেপ বন দফতরের৷ যাতে কোনওভাবে জঙ্গলে চারচাকা গাড়ি না প্রবেশ করতে পারে তার জন্য সোমবার মাটি কেটে বন্ধ করে দেওয়া হল পথ। পাশাপাশি, হোটেল-রিসর্টের বিজ্ঞাপনে মুখ ঢেকেছিল সোনাঝুরি জঙ্গলের। উপড়ে ফেলা হল সেই সব বিজ্ঞাপনী প্রচার সাইনবোর্ড৷
‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ শান্তিনিকেতনে আগত পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সোনাঝুরি জঙ্গলের খোয়াই হাট৷ সারা বছর হাজার হাজার পর্যটকের ঢল নামে এখানে। কিন্তু, বন দফতরের জায়গায় কোনও ব্যবসায়িক হাট বসার নিয়ম নেই। এই হাট ‘বেআইনি’। এছাড়া, জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়ে চারচাকা গাড়ি। যত্রতত্র পড়ে থাকে প্লাস্টিক। ফলে ধ্বংস হয় জঙ্গলের পরিবেশ, নষ্ট হয় গাছ৷ এদিকে গত কয়েক বছরে ধরে সোনাঝুরি জঙ্গলের আশেপাশে কয়েকশো হোটেল-রিসর্ট গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ নিয়ম বহিঃভূতভাবেই৷ সেই হোটেল-রিসর্টের বিজ্ঞাপনী বোর্ডে মুখ ঢেকেছিল সোনাঝুরি জঙ্গলের। জঙ্গল লাগোয়া রাস্তার দুই দিকে লোহার বিজ্ঞাপনী বোর্ড কংক্রিটের ঢালাই করে বসানো হয়েছিল৷ এদিন সেই সমস্ত বোর্ড উপড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পাশে মমতা-অভিষেক!
২০০০ সালে সোনাঝুরি জঙ্গলে গুটিকয়েক আদিবাসী শিল্পীদের তৈরি সামগ্রী ও বিশ্বভারতীর কলাভবনের পড়ুয়াদের তৈরি সামগ্রী নিয়ে হাট বসত। এই হাট বসিয়েছিলেন প্রয়াত আশ্রমিক শ্যামলী খাস্তগীর। তবে সেই সময় সপ্তাহে মাত্র একদিন, শনিবার এই হাট বসত। তাই এই হাটের আরেক নাম ছিল শনিবারের হাট৷ রাজ্যে তৃণমূল-কংগ্রেস সরকার আসার পর হাটের পরিবেশ অন্য রূপ পায়৷ বৃদ্ধি পেতে থাকে হাটের পরিসর।সোনাঝুরি হোয়াই শিল্পী হাটের ব্যবসায়ী রমেন সূত্রধর, মনিরা বিবিদের কথায়, জঙ্গলের পরিবেশ রক্ষার্থে বনদপ্তরের অভিযান কে স্বাগত জানাই। তবে, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গাড়ি ঢোকার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। কারণ যেভাবে মূল রাস্তার ধারে মাটি কেটে দেওয়া হয়েছে। গাড়ি যাতে না রুখতে পারে। এটা অনেক সমস্যা। নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অসুবিধা যেন। বিষয়টি বনদপ্তর ভেবে দেখলে ভালো হয়।অন্যদিকে সোনাঝুরি ঘাসে ঘুরতে আসা পর্যটক নীলাঞ্জনা সিনহার কথায়, শান্তিনিকেতন সোনাঝুরি খোয়াই হাট অন্যতম ঐতিহ্য। প্রকৃতির টানে আমরা বারবার করে শান্তিনিকেতনের ছুটে আসি। সোনাঝুরি মনোরম পরিবেশ কেনাকাটা করি। তবে জঙ্গল রক্ষার্থে বনদপ্তর এর অভিযান কে স্বাগত জানাই।
