কলকাতা: বেআইনি নির্মাণ বিতর্কের মধ্যেই ডায়মন্ড-হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়িতে হাজির কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। ঠিক কোন কারণের জন্য এই পুলিশ পৌঁছেছে তা জানা যায়নি। ইতিমধ্যেই বাড়ির ভিতরে ঢুকেছেন কলকাতা পুলিশের একাধিক আধিকারিক। বিকেল চারটে নাগাদ লালবাজার থেকে একাধিক পুলিশ কর্তারা পৌঁছন ‘শান্তিনিকেতন’ নামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। তিনজন পুলিশ অফিসার ভিতরে ঢোকেন। খানিকক্ষণ সেখানে থাকেন। বাড়ির ভিতর থেকে একটি মনিটর নিয়ে বেরিয়ে আসেন পুলিশকর্মীরা। তাঁরা বেরিয়ে যাওয়ার পরে একটি গাড়ি সেখানকার গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যায়। সেই গাড়িটি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার নামে নথিভুক্ত। শান্তিনিকেতন বাড়িটিও ওই সংস্থার নামেই পুরসভায় নথিভুক্ত রয়েছে।
হঠাৎ তৃণমূল সাংসদের বাড়িতে পুলিশ গেলেন, এ বিষয়ে লালবাজারের এক কর্তাকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান, এখনই এ সব নিয়ে কিছু জানানো যাবে না।কলকাতা পুলিশের বেশ কিছু জিনিসপত্র এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে রয়েছে। সেগুলি নিতেই কলকাতা পুলিশের দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছে। ইতিমধ্যে একটি এলইডি টিভি কলকাতা পুলিশ নিয়ে গিয়েছে। আরও কিছু জিনিস আছে?খানিক বাদে দেখা গেল বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা অন্য একটি গাড়িতে উঠে বেরিয়ে যান। কয়েকদিন আগে কলকাতা পৌরনিগমের তরফে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি ও হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়িতে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, তাঁরা দেখে গিয়েছিলেন এই শান্তিনিকেতন নামক বাড়ি ও কালীঘাটের বাড়িতে বেশ কিছু অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। বেশ কিছু অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, পুরসভার সেই নোটিশ ও নির্দেশের পরিপ্রক্ষিতেই আজ শান্তিনিকেতনে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল। সেখানে গিয়ে তারা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।জানা গেছে, কলকাতা পুরসভার পাঠানো নোটিশের জবাবে গতকালই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে পাল্টা একটি চিঠি পাঠানো হয় পুর কর্তৃপক্ষকে। সেই চিঠিতে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার জন্য এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।পুরসভার নোটিশের মেয়াদ এবং সময় চাওয়ার এই মাঝেই আজ পুলিশের এই যাওয়া ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়়ুন: মাথা কামিয়ে হাফ প্যান্ট-স্যান্ডো গেঞ্জি পরিয়ে হাওড়ার ‘ডন’কে রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ
ভোটের ফলঘোষণার দিন দুই পরে অভিষেকের বাড়ির সামনে থেকে প্রত্যাহার করা হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা। সরিয়ে দেওয়া হয় গার্ডরেল। তাঁর বাড়ির ভিতর থেকে বার করে আনা হয় স্ক্যানার।কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তাঁর কার্যালয়ের সামনে থেকেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা সরিয়ে দেওয়া হয়। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা বলয় ঘিরে থাকত অভিষেককে। কিন্তু ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের জন্য বরাদ্দ অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিশেষ পাইলট কারের সুবিধা আর বহাল নেই।সাংসদের সঙ্গে পাইলট কার ঘুরতে দেখা যেত। তবে সরকারি নির্দেশের পরে এক জন সাংসদ যে নিরাপত্তা পান, শুধু সেটুকু নিরাপত্তা বলয় বজায় রয়েছে অভিষেকের।
